default-image

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা সদরের মশুড়িয়াপাড়া মহল্লায় নিজ বাড়িতে ঢুকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুক্তি খাতুন নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁর শাশুড়ি নিলিমা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। মুক্তি ওই মহল্লার বায়োজিদ সরোয়ারের স্ত্রী।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বায়োজিদ সরোয়ার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি বিভিন্নজনকে প্রকল্পে চাকরিও দেন। এই সুবাদে মাঝেমধ্যেই তাঁর বাড়িতে লোকজন আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁদের বাড়িতে কয়েকজনকে ঢুকতে দেখা যায়। এরপর থেকে আর কেউ কিছু জানতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর সরোয়ারের মা নিলিমা খাতুনের চেঁচামেচিতে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে মেঝেতে গলাকাটা অবস্থায় মুক্তির লাশ দেখতে পান।

নিলিমা খাতুন বলেন, তাঁর ছেলে বায়োজিদ তখন বাজারে ছিলেন। তিনি পাশের একটি কক্ষে কোরআন শরিফ পড়ছিলেন। হঠাৎ পাঁচ যুবক চাকরির কথার জন্য তাঁদের বাড়িতে আসেন। এ সময় তাঁর পুত্রবধূ মুক্তি তাঁদের ড্রয়িংরুমে বসতে দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করছিলেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই পাঁচ যুবক হন্তদন্ত হয়ে তাঁর (নিলিমা) কক্ষে ঢোকেন। তাঁকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন। দুর্বৃত্তরা সবাই মাস্ক পরা ছিলেন। তিনি চিৎকার–চেঁচামেচি শুরু করলে তাঁরা দ্রুত পালিয়ে যান। পরে তিনি নিজ ঘর থেকে বের হয়ে পুত্রবধূর গলাকাটা লাশ দেখতে পান।

বিজ্ঞাপন

বায়োজিদ সারোয়ার জানান, রূপপুর প্রকল্পে চাকরির জন্য তাঁর মামার বাড়ির এলাকা থেকে কিছু মানুষ বাড়িতে আসবেন বলে কথা ছিল। তাই তিনি বাজারে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে স্ত্রীকে গলাকাটা অবস্থায় পেয়েছেন। তবে তিনি কাউকে দেখেননি। তাঁর মায়ের কাছ থেকে সব শুনেছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, ‘বায়োজিদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি দেন। চাকরির জন্য টাকাপয়সা লেনদেন নিয়ে কারও সঙ্গে বিরোধে ঘটনাটি ঘটতে পারে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। অনেকগুলো বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে।’

ওসি আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সিআইডির বিশেষ টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে আলামত সংগ্রহের পর মুক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন