default-image

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সাংসদ নূরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে দোলন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উচ্ছিষ্ট পাঁচ ট্রাক রড চুরিকে কেন্দ্র করে বিরোধে তিনি ওই ব্যবসায়ীকে মারপিট করেন বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নতুনহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আজ বুধবার আহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী মাধবী আক্তার ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। তবে অভিযোগপত্রে ত্রুটি থাকার কথা বলে সেটি গ্রহণ করেননি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

আহত ওই ব্যবসায়ীর নাম সোহেল রানা (৪৫)। তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলা পাওয়ার সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উচ্ছিষ্ট পাঁচ ট্রাক রড চুরিকে কেন্দ্র করে বিরোধে সাংসদপুত্র ওই ব্যবসায়ীকে মারপিট করেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগে সোহেল রানার স্ত্রী মাধবী আক্তার উল্লেখ করেন, সাংসদপুত্র দোলন বিশ্বাসের নেতৃত্বে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে পাঁচ ট্রাক উচ্ছিষ্ট রড বের করা হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে সোহেল রানা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে বিদ্যুৎ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ট্রাকগুলো আটক করে। এতে দোলন বিশ্বাস ক্ষিপ্ত হয়ে লোকবল নিয়ে তাঁর স্বামী সোহেল রানার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে এসে ভাঙচুর চালান ও মারপিট করেন। এতে সোহেল গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

সাংসদপুত্র দোলনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী আমাকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়েও লাঞ্ছিত হয়েছি। পরে বাধ্য হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
সোহেল রানা, আহত সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলা পাওয়ার সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক

আহত সোহেল রানা প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, সাংসদপুত্র দোলনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী তাঁকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়েও লাঞ্ছিত হয়েছেন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলা পাওয়ার সার্ভিসের নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, বাংলা পাওয়ার সার্ভিস রূপপুর প্রকল্পের ক্লিনিং সার্ভিসের দায়িত্বে রয়েছে। তারাই প্রকল্পের উচ্ছিষ্ট মালামাল সরিয়ে দেয়। কিন্তু সম্প্রতি সাংসদপুত্রের অনুসারী একটি চক্র উচ্ছিষ্টের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মালামাল সরিয়ে বিক্রি করছিল। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করার কারণেই সাংসদপুত্র ক্ষিপ্ত হয়েছেন। মারপিটের পাশাপাশি তিনি মামলা না করতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।

অভিযোগ বিষয়ে দোলন বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘রূপপুর প্রকল্পের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকা থেকে মালামাল চুরি অসম্ভব কল্পনা। এটি বানোয়াট অভিযোগ। কাউকে মারপিটের প্রশ্নই ওঠে না। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি মহল এসব গুজব ছড়াচ্ছে।’

রূপপুর প্রকল্পের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকা থেকে মালামাল চুরি অসম্ভব কল্পনা। এটি বানোয়াট অভিযোগ। কাউকে মারপিটের প্রশ্নই ওঠে না।
দোলন বিশ্বাস, পাবনা-৪ আসনের সাংসদ নূরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে

এ প্রসঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্প এলাকা থেকে সাংসদপুত্র দোলন বিশ্বাসের অনুসারী একটি চক্র কিছু মালামাল সরানোর চেষ্টা করছিল বলে শুনেছি। তবে তা বৈধ না অবৈধ, তা জানা নেই।’

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি থানায় সদ্য যোগদান করেছি। এসেই বিষয়টি জেনেছি। ঘটনায় আহত ব্যক্তির স্ত্রী একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। তবে অভিযোগপত্রে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধন করতে বলা হয়েছে। সংশোধন করে জমা দিলেই অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন