default-image

পাবনা জেলা শহরের শতবর্ষী ‘পৌর টাউন হল ময়দান’ পুনর্নির্মাণ করে ‘স্বাধীনতা চত্বর’ নামে উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন।

পৌর টাউন হল ময়দান পুনর্নির্মাণের আগে ‘মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পৌর মুক্তমঞ্চ’ নামে পরিচিত ছিল। এখন এটির পুরো নাম রাখা হয়েছে ‘মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বর’।

নবনির্মিত চত্বরটি তৈরি হয়েছে নান্দনিক নকশায়। টেরাকোটায় তুলে ধরা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতাসংগ্রাম ও বিভিন্ন আন্দোলনের ইতিকথা। তৈরি করা হয়েছে ৪৬ ফুট দৈর্ঘ্য, ৪০ ফুট প্রস্থ ও ২০ ফুট উচ্চতার মঞ্চ। এর সামনে রয়েছে সবুজ ঘাসে মোড়ানো ১১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১১৭ ফুট প্রস্থের খোলা মাঠ।

উদ্বোধন উপলক্ষে স্বাধীনতা চত্বরে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন স্বাধীনতা চত্বর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ারের পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, পাবনার পাঁচটি আসনের সাংসদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম ও পাবনা পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান।

বিজ্ঞাপন
ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে টাউন হল ময়দান প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর সংস্কারের অভাবে এটির ভগ্নদশা হয়।

আয়োজকেরা জানান, ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে টাউন হল ময়দান প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর সংস্কারের অভাবে এটির ভগ্নদশা হয়। ২০১৮ সালে চত্বরটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এটির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নির্মাণকাজের দায়িত্ব নেন অঞ্জন চৌধুরী। জেলার শিল্পপতি, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ শেষ হয়।

শতবর্ষী এই চত্বরে দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ থেকে কবি–সাহিত্যিকদের পদচারণে মুখর হয়েছে বহুবার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেক নেতা এখানে বক্তব্য রেখেছেন। ১৯০৮ সালে এই প্রাঙ্গণে কংগ্রেসের প্রাদেশিক সম্মেলন হয়েছিল। এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই চত্বর থেকে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বহু আন্দোলন-সংগ্রামের বীজ রোপিত হয়েছে।

চত্বর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অঞ্জন চৌধুরী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাবনা প্রথম হানাদারমুক্ত হয়। এ চত্বরে উত্তোলন করা হয় স্বাধীনতার পতাকা। মুক্তিযুদ্ধের এ চেতনা লালন করেই চত্বরটির নাম ‘স্বাধীনতা চত্বর’ করা হয়েছে। ইতিহাসবিজড়িত এই চত্বর নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের বার্তা তুলে ধরবে।

মন্তব্য পড়ুন 0