বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ক্যাম্পাস ত্যাগ করার পর উপাচার্য রোস্তম আলীকে আর ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি। ১৩ দিন পর গতকাল রাত ৮টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে ঢুকেন। কিছুক্ষণের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লেই ক্যাম্পাসের মূল ফটকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

মিছিলটি কয়েক দফা উপাচার্যের বাসভবন এলাকা প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে এসে অবস্থান নেয়। মিছিল থেকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় তাঁরা অবিলম্বে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন।

এদিকে বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হাসিবুর রহমান। তাঁরা শিক্ষার্থীদের থামানোর চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা বাধা উপেক্ষা করে উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

জানতে চাইলে প্রক্টর হাসিবুর রহমান বলেন, রাতে হুট করেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ হয়েছে।বিক্ষোভকারীরা বহিরাগত নাকি শিক্ষার্থী, সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বহিরাগত ব্যক্তিরা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে ঝামেলার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে পরিবেশ শান্ত হয়েছে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ ভালো রাখতে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৬ মার্চ উপাচার্য রোস্তম আলীর দায়িত্ব শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে তিনি ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় রিজেন্ট বোর্ডের ৬০তম সভা ডাকেন। সভায় ৬১টি আলোচ্য সূচির মধ্যে ৪২টি ছিল নিয়োগসংক্রান্ত।

শুরুতেই বোর্ডের সদস্যরা নিয়োগ নিয়ে আপত্তি তোলেন। স্বজনপ্রীতি করে উপাচার্য তাঁর ভাতিজি কানিজ ফাতেমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার পদে চাকরি দিয়েছেন বলে অভিযোগ জানান রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যরা। এমনকি নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কানিজ ফাতেমাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ সময় সদস্যরা নিয়োগ স্থগিত রেখে অন্য আলোচ্য সূচি নিয়ে আলোচনা করতে উপাচার্যের প্রতি আহ্বান জানান। এতে উপাচার্য ক্ষিপ্ত হয়ে রিজেন্ট বোর্ডের সভা স্থগিত করেন।

এতে আবার পদোন্নয়নের অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে উপাচার্যকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে প্রায় চার ঘণ্টা পর পাবনা-১ আসনের সাংসদ ও রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য শামসুর হকের সমঝোতায় উপাচার্য মুক্ত হন। এরপর আজ (২৪ ফেব্রুয়ারি) রিজেন্ট বোর্ডের সভার দিন ধার্য করে উপাচার্য ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা থেকে বাদ পড়েন কুমিল্লা সদরের কৃষ্ণনগর গ্রামের মনিরুল ইসলাম। তালিকায় নিজের নাম না দেখে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে উপাচার্যের পথ রোধ করেন। তিনি চাকরির জন্য উপাচার্যকে ঘুষ দিয়েছেন দাবি করে সেই টাকা ফেরত চান। এ–সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিয়োগটি বাতিল হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন