default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পারিবারিক কলহের জের ধরে এক ব্যক্তি স্ত্রী-শাশুড়িকে ‘অ্যাসিড’ নিক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ভাটামাথা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, নিক্ষেপ করা ওই তরল পদার্থ অ্যাসিড নয়, এটি ব্যাটারির পানি।

আহত ব্যক্তিরা হলেন আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ভাটামাথা গ্রামের কালীপদ পালের স্ত্রী পুতুল রানী পাল (৫০) ও তাঁর মেয়ে চন্দনা পাল (৩০)। আহত ওই দুই নারীকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চন্দনার মুখমণ্ডল, হাত, বুক ও পিঠের কিছু অংশ এবং পুতুল রানীর মুখমণ্ডল, হাত ও বুকের কিছু অংশ পুড়ে গেছে।

চন্দনার বাবা কালীপদ পাল বলেন, ২০০৯ সালের জুলাই মাসে পারিবারিকভাবে ঢাকার তাঁতীবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিতাই পালের ছেলে আনন্দ পালের সঙ্গে চন্দনার বিয়ে হয়। তাঁদের পরিবারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। চন্দনার স্বামী আনন্দ পাল জুয়াড়ি প্রকৃতির লোক ছিলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলে আসছিল।

কালীপদ পাল আরও বলেন, করোনার লকডাউনের মধ্যে আনন্দ জুয়া খেলে অনেক টাকা ঋণী হয়ে যান। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে চন্দনা পালের কলহ আরও বাড়তে থাকে। পরে চন্দনাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে আসেন। প্রায় এক বছর ধরে চন্দনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ভাটামাথা গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে স্বামী আনন্দ পাল মুঠোফোনে চন্দনাকে ঢাকায় চলে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে আনন্দ পাল শ্বশুরবাড়ি আখাউড়ার ভাটামাথা গ্রামে চন্দনাদের বাড়িতে ব্যাগে কাপড় নিয়ে বেড়াতে যান। যাওয়ার পর চন্দনাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চাপ দেন। ঋণের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। চন্দনা স্বামীকে ঋণ পরিশোধ করার কথা বলেন। ঋণ শেষ হলে চন্দনা শ্বশুরবাড়ি ফিরে যাবেন বলে স্বামী আনন্দ পালকে জানিয়ে দেন। এতে আনন্দ পাল রেগে তাঁকে মারধর করেন। পরে তাঁর কাপড়ের ব্যাগ থেকে এক বোতল ‘অ্যাসিড’ বের করে চন্দনার শরীরে নিক্ষেপ করেন। এ সময় চন্দনা চিৎকার শুরু করলে মা পুতুল পাল এগিয়ে যান। আনন্দ পাল দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় শাশুড়ি পুতুল পালের শরীরেও অ্যাসিড ছুড়ে মারেন। পরে আনন্দ পাল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুল হক বলেন, মা-মেয়ের শরীরের মুখ, গলা ও বুকে অ্যাসিডের ছিটা পড়েছে। তবে তাঁরা শঙ্কামুক্ত। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. রইছ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নিক্ষেপ করা ওই তরল পদার্থ অ্যাসিড নয়, ব্যাটারির পানি। তাঁরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হননি। তবে শরীরের যে অংশে ব্যাটারির পানি পড়েছে, তা পুড়ে গেছে। পুলিশ চন্দনার স্বামীকে আটক করতে অভিযান শুরু করেছে। তবে আহতের পরিবার থেকে কোনো মামলা এখনো করা হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন