default-image

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম শাহাজাদ হোসেন (৩৭)। তাঁকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পরে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করেন স্ত্রী শরিফা বেগম (২৫)। এ অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে শরিফা বেগমকে গ্রেপ্তারের পর তিনি হত্যা করার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর পার্বতীপুর শহরের চান্দোয়াপাড়া মহল্লার মৃত জহির উদ্দীনের ছেলে শাহাজাদ হোসেনের সঙ্গে একই উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ভোটগাছ গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে শরিফা বেগমের বিয়ে হয়। তবে এটি শরিফার চতুর্থ ও শাহাজাদ হোসেনের তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকে তাঁদের মধ্যে কোনো বনিবনা হচ্ছিল না। প্রতিদিনই দুজনের মাঝে ঝগড়া লেগেই থাকত।

শরিফা বেগম নিজ হাতে গলা টিপে তাঁকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আনিছুর রহমান। হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কই মূল কারণ বলে তিনি জানান।
বিজ্ঞাপন

দুই মাস আগে শাহাজাদ হোসেন টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় একটি অটোরাইস মিলে হেলপার পদে চাকরিতে যোগ দেন। গতকাল বুধবার ভোরে শাহাজাদ কর্মস্থল থেকে চান্দোয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে আসেন। পুলিশ জানায়, ওই দিন বিকেলে স্ত্রী শরিফা বেগম সুজির হালুয়ার সঙ্গে ঘুমের বড়ি মিশিয়ে তাঁকে খেতে দেন। এতে কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী শরিফা বেগম নিজ হাতে গলা টিপে তাঁকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আনিছুর রহমান। হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কই মূল কারণ বলে তিনি জানান।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্বামীকে খুনের অভিযোগে স্ত্রী শরিফা বেগমকে আজ সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ আজ দুপুরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন