পাঁচ হাতের কম দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে দুটি মঞ্চ, পরস্পরকে যেন পৃষ্ঠ প্রদর্শন করছে তারা। নরসিংদী শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখে বিপরীতমুখী দুটি মঞ্চে অনুষ্ঠান করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ। আজ শুক্রবার বিকেলে
পাঁচ হাতের কম দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে দুটি মঞ্চ, পরস্পরকে যেন পৃষ্ঠ প্রদর্শন করছে তারা। নরসিংদী শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখে বিপরীতমুখী দুটি মঞ্চে অনুষ্ঠান করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ। আজ শুক্রবার বিকেলেপ্রথম আলো

পাঁচ হাতের কম দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে দুটি মঞ্চ, পরস্পরকে যেন পৃষ্ঠ প্রদর্শন করছে তারা। মঞ্চ দুটিতে চলছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নানা আয়োজন। এতটুকু জায়গায় রয়েছে দুই আয়োজক পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মাইক। কোনোটি থেকে ভেসে আসছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বা দেশপ্রেমের গান, কোনোটি থেকে ভেসে আসছে বক্তাদের জ্বালাময়ী বক্তব্য। একই স্থানে একই সঙ্গে দুই রকম শব্দ ভেসে আসায় কোনোটাই ভালো করে কেউ শুনছিলেন না। এ ঘটনা আজ শুক্রবার বিকেলের, নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে।

নরসিংদী শহরের প্রধান সড়কের একটি অংশে যান চলাচল বন্ধ রেখে বিপরীতমুখী দুটি মঞ্চে অনুষ্ঠান করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ। বিকেলে বিভাজিত জেলা আওয়ামী লীগের ওই দুই পক্ষ এসব মঞ্চে নিজেদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করেছেন। বিভাজিত আওয়ামী লীগের এক পক্ষে আছেন স্থানীয় সাংসদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং অন্য পক্ষে আছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ভূঁইয়া ও পৌর মেয়র কামরুজ্জামান।

একই স্থানে একই সঙ্গে দুই রকম শব্দ ভেসে আসায় কোনোটাই ভালো করে কেউ শুনছিলেন না। এ ঘটনা আজ শুক্রবার বিকেলের, নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে।

সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, সাংসদ পক্ষের মঞ্চে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা চলছে। সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কয়েক হাজার লোক এতে অংশ নেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংসদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সদর থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া, মাধবদী পৌরসভার মেয়র মোশারফ হোসেন প্রধান, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোন্তাজ উদ্দিন ভূঁইয়া প্রমুখ। বক্তারা যখন একের পর এক বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন পাশের মঞ্চ থেকে ভেসে আসছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও দেশাত্মবোধক গান।

বিজ্ঞাপন
default-image

অন্যদিকে পাশের ওই মঞ্চে গণভোজ ও দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও সংগ্রামী গান প্রচারের আয়োজন করা হয়। সেখানে টাঙানো ব্যানারে দেখা গেছে, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ভূঁইয়া। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জি এম তালেব হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা কাজী মোহাম্মদ আলী। তবে সাংসদ পক্ষের অনুষ্ঠান যখন চলছিল, তখন ওই নেতারা অনুষ্ঠানস্থলে ছিলেন না। শুধু মাইকে বাজছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও দেশাত্মবোধক গান।

তবে বক্তাদের বক্তব্য বা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ—কোনোটাই ভালো করে শুনতে পাচ্ছিলেন না অনুষ্ঠানস্থলে আগত ব্যক্তিরা। দুই পক্ষের এমন আয়োজনের সমালোচনা করতে দেখা গেছে তাঁদের। সদর উপজেলার চরাঞ্চল নজরপুর থেকে আসা রফিক মিয়া বলেন, ‘এক জায়গায় এত কাছাকাছি দুই অনুষ্ঠান জীবনে প্রথম দেখলাম। এমন আয়োজন একলগে না হইলেই ভালো হইত। যাদের কথা শুনার লাইগ্যা আইছি, ভালো কইরা কিছুই শুনতে পারলাম না।’

default-image

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানান, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্ত থেকেই মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, আবদুল মতিন ভূঁইয়া ও কামরুজ্জামানের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু গত জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে থেকে দুই পক্ষে বিভাজিত হয়ে পড়েন তাঁরা। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ভূঁইয়া এবং পৌর মেয়র কামরুজ্জামান। এরপর থেকে দুই পক্ষই নিজেদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আলাদা আয়োজনে বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব-বিভেদ দূর করার বহু চেষ্টা করা হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে। পরে ব্যর্থ হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও আবদুল মতিন ভূঁইয়াকে। তারপরও আলাদা আলাদা আয়োজনে নিজেদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠান করে চলছে দুই পক্ষ।

default-image

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তিনজনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সাংসদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম কল ধরেননি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফোন ধরে জানান, তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন। আর মেয়র কামরুজ্জামানের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী জানান, পাশাপাশি মঞ্চ বানানো হলেও অনুষ্ঠান একই সময়ে হয়নি। তবে এক মঞ্চ থেকে বক্তাদের বক্তব্য এবং অন্যদিক থেকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও দেশাত্মবোধক গান একই সঙ্গে চলার ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন