বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জি এলাকায় প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। উজানের ঢলে সেই পানি আসায় যমুনা নদীতে পানি বেড়েছে। তবে বন্যার কোনো পূর্বাভাস নেই। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পানি কমে যেতে পারে বলে তিনি জানান।

এদিকে যমুনায় আকস্মিক পানি বাড়ায় নদীর ঢালে ও চরের নিচু জমিতে লাগানো বোরো ধান, বাদাম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল তলিয়ে গেছে। দিশাহারা হয়ে অনেক কৃষক অপরিপক্ব বোরো ধান কেটে গরু–মহিষকে খাওয়াচ্ছেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ইউনিয়নের শিমুলতাইড়, হাটবাড়ি, মানিকদাইড়, বহুলাডাঙ্গা, খাটিয়ামারি, সুজনের পাড়াসহ বিভিন্ন চরে বোরো, বাদাম ও পেঁয়াজের চাষ করা হয়েছিল। যমুনা নদীতে আকস্মিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ১০০ একর বোরো, বাদাম ও পেঁয়াজের খেত তলিয়ে গেছে। ফসল তলিয়ে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা তলিয়ে যাওয়া সবুজ ধানের চারা কেটে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।

চরঘাগুয়া চরের কৃষক আবদুল কুদ্দুস বলেন, তিনি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ করে চরের ১৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছিলেন। গত শুক্রবার নদীতে আকস্মিকভাবে পানি বৃদ্ধি পায়। খেত থেকে পেঁয়াজ তোলার জন্য শ্রমিকও ঠিক করেন। গতকাল ভোরে জমিতে গিয়ে দেখেন, যমুনার ঢলে খেত তলিয়ে গেছে। চরের এই কৃষক জানান, বেণিপুর চরে প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছিল। অর্ধেক পেঁয়াজও কৃষকের ঘরে ওঠেনি।

চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের হাটবাড়ি চরের কৃষক লুৎফর শেখ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধারদেনার ৫০ হাজার টেকা খরচাপাতি করে চার বিঘা জমিনত বোরো লাগাইচিলাম। ধান পাকতে এখনো ম্যালা দিন বাকি। তার আগেই বানের ঢলত সব শ্যাষ।’

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল হালিম বলেন, এ মৌসুমে চরের জমিতে বোরো ধান, পেঁয়াজ ও চিনাবাদামের আবাদ ছিল। অসময়ে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কিছু বোরো ধানের খেত তলিয়ে গেছে।