default-image

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে আঁকাবাঁকা মোড়। এদিকে অপরিকল্পিতভাবে সড়কের ইউটার্নে বসানো হয়েছে পাকা পিলার (খুঁটি)। তাই অনেক স্থানে এখন সড়কের প্রশস্ততা কম। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের সড়ক দিয়ে কমলগঞ্জ হয়ে কুলাউড়া, বড়লেখার ব্রাহ্মণবাজার দূরত্ব কম হওয়ায় এ সড়কটি ব্যস্ত থাকে। কমলগঞ্জসহ কুলাউড়া ও এর আশপাশের কর্মজীবী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করেন। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, হামহাম জলপ্রপাতসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটও আছে সড়কে। ফলে পর্যটকদের গাড়িও চলাচল করে এ সড়কে। তা ছাড়া, চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত বড় ট্রাক আসা-যাওয়া করে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় প্রবেশকালে ফুলবাড়ি চা–বাগানের একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক (মোড়) মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি এলাকায়। এ এলাকায় আরও দুটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক আছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটকসংলগ্ন কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের দুই দিকে দুটি বাঁক আছে। এ ছাড়া, উদ্যান এলাকার গাড়িভাঙ্গা ও জানকিছড়া এলাকায় দুটি ঝুঁকিপূর্ণ মোড় রয়েছে। এ মোড়গুলোতে পাশাপাশি দুটি গাড়ি ঘুরতে গেলে একে অপরের গায়ে লেগে যায়। নতুবা একটি গাড়ি অপেক্ষা করে, আরেকটি গাড়ি পার হয়।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৮ কিলোমিটারই পাহাড়ি এলাকা। সম্প্রতি শমশেরনগর বিমানবন্দর এলাকা থেকে শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত এ ১২ কিলোমিটারসহ ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কে উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। এতে ৪৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়। তবে এ সময় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর আঁকাবাঁকা মোড়গুলো সম্প্রসারণ করা হয়নি।

এর মধ্যে আবার অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন মোড়ে পিলার বসানোর কারণে চালকদের সমস্যা আরও বেড়েছে। এ পিলার বসানোর কারণে সড়কটি কিছুটা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় একসঙ্গে দুটি গাড়ি ঠিকমতো মোড় ঘুরতে পারে না।

শমশেরনগর-শ্রীমঙ্গল পথের বাসচালক আলী আজম বলেন, এমনিতেই এ সড়কের বাঁকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কের উন্নয়নকালে এসব বাঁকে সড়কের সাইডের ছোট দেয়ালের সড়কের ভেতরে পাকা পিলার স্থাপনে আরও ঝুঁকি বেড়ে গেছে। আকস্মিকভাবে এসব এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনকে অতিক্রমকালে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আনিছুর রহমান জানান, তাঁরা মোড়গুলো প্রশস্তকরণ ও বিপজ্জনক স্থানে গাইড ওয়াল (সুরক্ষা দেয়াল) তুলতে চেয়েছেন। কিন্তু সড়কের নিচ দিয়ে গ্যাসের পাইপলাইন গেছে। আর বন বিভাগও বাধা দিয়েছে। পরে সেটা করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন মোড়ে আপ-ডাউন থাকায় পানিনিষ্কাশনের জন্য ড্রেন (নালা) গভীর করে পিলার দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনো গাড়ির চাকা ড্রেনে পড়ে দুর্ঘটনা না ঘটে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক আনিছুর রহমান জানান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে সড়কের কাজে তাঁরা সড়ক ও জনপথ বিভাগকে বাধা দেননি। তাদের শুধু লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপথের সামনে টিলা কাটতে নিষেধ করা হয়েছিল। আর সওজ অপ্রয়োজনীয় কিছু স্থানে গাইড ওয়াল তুলতে চাইছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0