সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সাংসদ কাজী কানিজ সুলতানার বড় ছেলে মাহিন হোসেন তালুকদারের বিয়ের পর নববধূ, বরযাত্রীসহ স্বজনেরা বরিশাল থেকে পটুয়াখালী ফিরছিলেন। রাত সাড়ে সাতটার দিকে পায়রা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে টোল প্লাজায় টোল আদায় নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে মারামারির ঘটনা ঘটে।

পায়রা সেতুর টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিয়ে বহরের বেশ কয়েকটি গাড়ি সেতুর টোল প্লাজায় আসে। এ সময় টোল আদায়ে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা টোল চাইলে সাংসদের পরিবারের সদস্য পরিচয় দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে কয়েক যুবক টোল আদায়কারীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও মারধর শুরু করেন। টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় তাঁদের পাঁচ কর্মচারী আহত হন। আহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন নিরাপত্তা সুপারভাইজার রাসেল, কর্মচারী বাবুল, সুবজ ও মাহবুব। আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সাংসদ কাজী কানিজ সুলতানা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, পায়রা সেতুর টোল প্লাজায় বিয়ের গাড়িগুলো পৌঁছালে টোলের পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। এ নিয়ে তাঁর ছেলে ও ছেলের বন্ধুদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়।

সাংসদ অভিযোগ করেন, এ ঘটনার সময় টোল প্লাজার বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁর ছোট ছেলের বন্ধু আশিককে টেনেহিঁচড়ে টোল প্লাজার নিচতলায় নিয়ে বেদম প্রহার করা হয়। অনেকেরই সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। নববধূসহ অনেক নারী অতিথিদের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘আসলে এই লোকগুলো (টোল আদায়কারী) আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে। যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আসলে তাঁরা মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন না। আসলেই তাঁরা ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিলেন।’

সাংসদ কানিজ সুলতানা আরও বলেন, হামলায় তাঁদের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন আশিক মাহমুদ, গাড়িচালক বিলাল হোসেন ও জাকারিয়া মাহমুদ। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৮ মে ছেলের বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানের পর এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, মারামারির ঘটনায় দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ করেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন