বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অভিযোগে তাঁরা উল্লেখ করেন, উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ বিষয়ে গত ১০ জানুয়ারি উপজেলা কমিটির সভা হয়। উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তাঁরা জানতে পারেন বাঁধের কাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন আগেই শেষ হয়ে গেছে। অথচ তাঁরা এ বিষয়ে কোনো কিছুই জানেন না। ইউপি চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতিতে গোপনে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পিআইসি গঠনে অনিয়ম হয়নি। নীতিমালার বাইরে চেয়ারম্যানদের কিছু আবদার ছিল। এ কারণে তাঁরা অভিযোগ করেছেন।
মো. আল মুক্তাদির, ইউএনও, শাল্লা উপজেলা

তাঁরা আরও বলেন, বিগত বছরগুলো বাঁধের প্রকল্প নির্ধারণ এবং পিআইসি গঠনে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা (পাউবো) এ বিষয়ে তাঁদের পরামর্শ ও মতামত নিয়েছেন। তাঁরা নিজেরাও মাঠে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু এবার তাঁদের কোনো কিছু না জানিয়ে গোপনে সবকিছু করা হয়েছে।

হবিবপুর ইউপির চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বলেন, ‘আমরা কোনো কিছুই জানি না। এবার গোপনে কমিটি হয়েছে। এতে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। বাঁধের কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, এ জন্য আমরা বিষয়টির তদন্ত ও কমিটিগুলো বাতিলের দাবি জানিয়েছি।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে এবার হাওরে বাঁধ নির্মাণের জন্য এখন পর্যন্ত ৭০১টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ১১৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে শাল্লা উপজেলায় এখন পর্যন্ত ১৩৮টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু করার কথা। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে একটি পিআইসি। প্রকৃত কৃষক ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে ৫ থেকে ৭ সদস্যের একটি পিআইসি গঠন করার কথা। একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারে।

ইউপি চেয়ারম্যানদের অভিযোগের বিষয়ে শাল্লা উপজেলার দায়িত্বে থাকা পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

ইউএনও মো. আল মুক্তাদির হোসেন বলেন, পিআইসি গঠনে কোনো অনিয়ম হয়নি। তিনি হাওরে হাওরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে কমিটি করেছেন। নীতিমালার বাইরে ইউপি চেয়ারম্যানদের কিছু আবদার ছিল, যেগুলো তাঁরা রাখতে পারেননি। এ কারণে চেয়ারম্যানরা এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শাল্লার ইউপি চেয়ারম্যানদের অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. জাকির হোসেনকে প্রধান এবং পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের দুজন প্রকৌশলীকে সদস্য করে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি পিআইসি গঠনে কোনো অনিয়ম হয়, তাহলে সেগুলো বাতিল হবে। আর যদি দেখা যায় সঠিক আছে, তাহলে এই কমিটিগুলোই কাজ করবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন