বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২৫ বছরের এই তরুণ নিজেও একজন চা–শ্রমিক। অবসর সময়ে চা–শ্রমিকদের সেবামূলক বিভিন্ন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন তিনি। পাত্রখোলা চা–বাগান কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ নিয়ে পাঠাগার চালু করেছেন লিটন। মুক্তিযুদ্ধ থেকে বিজ্ঞান, ইতিহাস থেকে সাহিত্য—৪ শতাধিক বই আছে লিটনের পাঠাগারে। চা-শ্রমিক পরিবারের সবার জন্য উন্মুক্ত এই পাঠাগার। বিনা মূল্য সেখানে বই পড়তে পারেন তাঁরা।

এদিকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা আর নিজ চেষ্টায় লিটন চালু করেছেন সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। চা–বাগানের পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতেই লিটনের এই প্রয়াস। লিটন জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানের দেওয়া দুটি সেলাই মেশিন দিয়ে তিনি কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। বর্তমানে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মোট ১০টি সেলাই মেশিন আছে। অল্প খরচেই চা-শ্রমিক পরিবারের নারীরা এখান থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পান।

default-image

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গঞ্জু সমাজসেবক ফোরাম নামের লিটন একটি সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই সংগঠনের ব্যানারে সচেতনতামূলক বিভিন্ন সভা–সেমিনারের আয়োজন করেন তিনি। লিটন বলেন, এসব সেমিনারের মাধ্যমে গঞ্জু সম্প্রদায়ের মানুষকে বাল্যবিবাহ, মাদক ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতন করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষা বিস্তার ও গঞ্জু সম্প্রদায়ের সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রেও এই সংগঠনটি কাজ করে থাকে।

ভবিষ্যতে এই সংঠনকে আরও বড় করে তুলতে চান লিটন। গঞ্জু সম্প্রদায়সহ স্থানীয় অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জন্যও কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া পাঠাগার আর সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি গঞ্জু সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালুর স্বপ্ন দেখেন এই তরুণ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন