চাঁদা আদায় বন্ধের দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের দেড় শতাধিক ব্যাটারিচালিত অটো চার্জার ভ্যানের চালক উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করেছেন। আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিমের বাসভবনে গিয়ে তাঁর কাছে এ চাঁদা আদায় বন্ধের দাবি জানান অটো ভ্যানচালকেরা।
উপজেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন নেতার নির্দেশে এ চাঁদা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ ভ্যানচালকদের। তাঁরা জানিয়েছেন, পীরগঞ্জ-লোহাগাড়া ও পীরগঞ্জ-কাতিহার হাট সড়কে ১৪০ থেকে ১৫০টি ভ্যান চলাচল করে। এ জন্য তাঁদের একটি সমবায় সমিতি রয়েছে।
ওই সমিতির সভাপতি হামিদুল ইসলাম, সম্পাদক মো. নেজামউদ্দীন, সদস্য দেলোয়ার হোসেনসহ চালকের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, পৌর শহরে ঢুকতে তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রতিদিন ২০ টাকা করে এবং কার্ড দেওয়ার বিনিময়ে ৫৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এ চাঁদা আদায় বন্ধ করার দাবিতে আজ উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঘেরাও করেন এবং ইউএনও রেজাউল করিমের বাসভবনে গিয়ে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান তাঁরা।
ভ্যানচালকেরা বলেন, প্রতিদিন পীরগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় অটোভ্যান চালিয়ে চালকপ্রতি পাঁচ-ছয় শ টাকা পান। মালিককে প্রতিদিন ভ্যানপ্রতি তাঁদের ৪০০ টাকা জমা দিতে হয়। এরপর একেকজন চালকের দিনে দুই থেকে তিন শ টাকা থাকে। এত অল্প আয়ের কারণে তাঁদের পরিবার নিয়ে অভাবে দিন কাটাতে হয়। আর্থিক অনটনের কারণে সন্তানদের স্কুলে পড়ানোর খরচ বহন করতে পারেন না তাঁরা।
ইউএনও রেজাউল করিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘অটো ভ্যানচালকেরা তাঁদের কাছ থেকে মোটর পরিবহন শ্রমিকদের চাঁদা তোলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আমি মেয়র মহোদয়কে নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে বসে বিষয়টির সুরাহা করার আশ্বাস দিয়েছি।’
এদিকে আজ উপজেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল আউয়াল, সম্পাদক খলিলুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ ফরিদুল ইসলামসহ চার-পাঁচজন পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হকের সঙ্গে ইউএনও রেজাউল করিমের কাছে গিয়েছিলেন বলে ভ্যান শ্রমিকেরা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ওই শ্রমিকনেতারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মেয়র ইকরামুল হক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাত মাস হলো আমি ওই চাঁদা তোলা বন্ধ করে দিয়েছি। এটা আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। ভ্যানচালকেরা আবার আমাকে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে চাঁদা তোলার অভিযোগ দিয়েছেন। এখন যদি কেউ সত্যি চাঁদা তুলে থাকে, আমি তাদের পুলিশে দেব।’