পুকুরে মিলল বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপ

বাগেরহাট সদর উপজেলার একটি পুকুর থেকে বিপন্ন প্রজাতির একটি ‘ধুম তরুণাস্থি’ বা ‘ধুম কচ্ছপ’ উদ্ধার করা হয়েছে
ছবি: প্রথম আলো

বাগেরহাটে পুকুরে মাছ ধরার সময় বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। মাছের সঙ্গে জালে ওঠা কচ্ছপটি ‘ধুম তরুণাস্থি’ বা ‘ধুম কচ্ছপ’ বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। বুধবার সকালে সদর উপজেলার কাড়াপাড়া গ্রামের জনৈক হানিফ ফকিরের পারিবারিক পুকুরে কচ্ছপটি পাওয়া গেছে।

বন বিভাগ বলছে, ধুম কচ্ছপ বিপন্ন প্রজাতির একটি প্রাণী। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এ প্রজাতির কচ্ছপকে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করে লাল তালিকাভুক্ত করেছে। প্রকৃতিতে দিন দিন প্রাণীটির সংখ্যা কমতে থাকায় ভবিষ্যতে এ প্রজাতির কচ্ছপ বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে ধুম কচ্ছপ দেখা যায়। বাংলাদেশের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী, এটা সংরক্ষিত প্রজাতির কচ্ছপ।

পুকুরের মালিক হানিফ ফকির কচ্ছপটি বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনা কার্যালয়ের পরিদর্শক রাজু আহম্মেদের নেতৃত্বে তাঁর কাছ থেকে কচ্ছপটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

হানিফ ফকির প্রথম আলোকে বলেন, জাল দিয়ে পুকুর থেকে মাছ ধরার সময় কচ্ছপটি পেয়ে তিনি নিজের কাছে রেখেছিলেন। পরে বন বিভাগ ও পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রাণীটি নিয়ে থানায় যান। সেখানে বন বিভাগের লোকদের কাছে কচ্ছপটি হস্তান্তর করেন।

পরিদর্শক রাজু আহম্মেদ বলেন, এ প্রজাতির কচ্ছপ ধরা, মারা বা বেচাকেনা করা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। পুকুরে একটি কচ্ছপ পাওয়া গেছে—এমন খবর পেয়ে তাঁরা প্রাণীটি উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, এটি উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান।