বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ি ছাড়াও পুঠিয়ার রাজাদের স্মৃতিধন্য বড় গোবিন্দ মন্দির, ছোট গোবিন্দ মন্দির, বড় শিবমন্দির, ছোট শিবমন্দির, বড় আহ্নিক মন্দির, ছোট আহ্নিক মন্দির, জগদ্ধাত্রী মন্দির, দোল মন্দির, রথ মন্দির, গোপাল মন্দির, সালামের মঠ, খিতিশচন্দ্রের মঠ, কেষ্ট খেপার মঠ, হাওয়া খানাসহ ১৫টি প্রাচীন স্থাপনা সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু রাজবাড়িতে ঢুকতে ২০ টাকার টিকিট নেওয়া হচ্ছে। এর চারটি কক্ষে রাজবাড়ির বিভিন্ন সামগ্রী ছাড়াও রাখা হয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলে পাওয়া বিভিন্ন প্রত্ন নিদর্শন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ নভেম্বর রাজবাড়িটি জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজবাড়িটি এখন থেকে অধিদপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট কাস্টোডিয়ানের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ১৮৯৫ সালে মহারানি হেমন্ত কুমারী দেবী তাঁর শাশুড়ি মহারানি শরৎ সুন্দরী দেবীর সম্মানে প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। প্রাসাদের নিচতলায় ১২টি ও ওপরের তলায় ১৫টি কক্ষ আছে। কক্ষগুলো রাজাদের দাপ্তরিক কাজ ও বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হতো। দ্বিতীয় তলায় ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতির কারুকাজখচিত জোড়া থাম ও ঝুলবারান্দা আছে। বারান্দাসহ নিচের একটি এবং ওপরের তিনটি কক্ষ জাদুঘরের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। নিচের কক্ষটিতে রাজাদের ব্যবহৃত আসবাব প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। রাজারা যেসব চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করতেন, সেগুলো খুঁজে পাওয়া গেছে।

default-image

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ জানান, রাজারা ভারতে চলে যাওয়ার পর তাঁদের প্রতিষ্ঠিত পিএন হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ রাজাদের আসবাব ও সিন্দুক এনে স্কুলে রেখেছিলেন। সেখান থেকে কিছু জিনিস ইউএনও কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল। জাদুঘর করার সময় তিনি (ইউএনও) স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে সেখানে রাখা আসবাব ও সিন্দুকগুলো রাজবাড়ি জাদুঘরে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাদুঘরের ওপরের তলার তিন নম্বর গ্যালারিতে তিনটি সিন্দুক ও নিচতলায় চার নম্বর গ্যালারিতে দুটি আলমারি, চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাব রাখা হয়েছে। চার নম্বর গ্যালারিটি লোকবলের অভাবে সারাক্ষণ খুলে রাখার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। ওপরের তিনটি গ্যালারি খোলা থাকছে। ওপরের দর্শনীয় স্থান ঝুলবারান্দায় দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা ছবি তোলার জন্য ভিড় করছেন।

ঈদের দিন জাদুঘর বন্ধ ছিল। সেদিন দর্শনার্থীরা এসে ফিরে গেছেন। পরের দিন থেকে জাদুঘর দেখতে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। ঈদের তৃতীয় দিনে গতকাল দুপুরে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির কাছে ঢাকা থেকে আসা চার শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে ফজলে রাব্বি নামের একজন শিক্ষার্থী বললেন, তাঁরা চার বন্ধু মিলে ঈদের ছুটিতে ঘুরতে এসেছেন। রাজশাহী শহরের পাশের পদ্মা নদীর তীর, বরেন্দ্র জাদুঘর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখেছেন। তাঁদের বেড়ানোর তালিকায় পুঠিয়া রাজবাড়িও ছিল। জাদুঘর করায় অনেক প্রত্নবস্তুও দেখা হলো। ভালো লাগল।

রাজশাহী শহর থেকে সপরিবার রাজবাড়ি জাদুঘর দেখতে এসেছেন একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী মাহবুব রহমান। তিনি বললেন, জাদুঘর করার কথা শুনে দেখতে এসেছেন। রাজবাড়ির জিনিসগুলো দেখার তাঁর আগ্রহ ছিল। তাই সিন্দুকগুলো দেখলেন।

default-image

পাবনার পাকশী থেকে পুঠিয়ার গন্ডগোহালী গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে অতিথি এসেছেন। তিনি তাঁদের রাজবাড়ি জাদুঘর দেখাতে এনেছেন। জাহাঙ্গীর প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের হাতের কাছে দেখানোর মতো একটি জায়গা রাজবাড়ি। এবার সেটা জাদুঘর করা হয়েছে। মেহমানদের তাই দেখাতে নিয়ে এসেছেন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, পুঠিয়ার রাজবাড়ি একটি বড় পুরাকীর্তি। এখনো এর পুরো সংরক্ষণকাজ শেষ হয়নি। সব কাজ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে সব কটি কক্ষ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সন্ধ্যায় রাজবাড়িসহ অন্য মন্দিরগুলোতে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য পুরো রাজবাড়ি চত্বর আরও আকর্ষণীয় লাগছে। মানুষ সন্ধ্যার পরেও সেখানে ভিড় করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন