বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরে ছয়টি রিংয়ে সার উৎপাদন শুরু করেন। এ কাজে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এখন ৩৫টি রিংয়ে প্রতি দুই সপ্তাহ পরে ৭০০ কেজি সার উৎপাদন করছেন তিনি।
পুতুল চন্দ্র, কেঁচো সার প্রস্তুতকারী

২ অক্টোবর সকালে রামচন্দ্রপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রত্যেকের বাড়ির উঠানে ৫-৩৫টি পর্যন্ত সিমেন্টের তৈরি রিংয়ের মধ্যে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। ছায়াযুক্ত স্থানে রিংগুলো বসানো। কারও সার তৈরি হয়েছে, কেউ সার তুলে আবার নতুন করে প্রক্রিয়া করছেন। উপকারভোগীরা বলছেন, কেঁচো সার ব্যবহার করায় জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমেছে, সার বাবদ খরচও কমেছে। এই সার উৎপাদনে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর মহিলা সিআইজি নামে একটি সমিতিও গঠন করেছেন।

default-image

সার তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে উৎপাদনকারীরা জানান, কলাগাছ কুচি কুচি করে কেটে তাতে মেশানো হয় গোবর। সেই মিশ্রণ সিমেন্টের রিংয়ের মধ্যে দিয়ে তাতে ছেড়ে দেওয়া হয় দুই থেকে আড়াই কেজি কেঁচো। ওপরের অংশে সামান্য কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয় ১৫ দিন। কেঁচো সেই মিশ্রণ খেয়ে নরম করে তোলে। দুই সপ্তাহ পরে বাদামি রং ধারণ করলে নেটের মধ্যে দিয়ে ছেঁকে নেওয়া হয়। আর তাতেই বের হয়ে আসে কেঁচো সারের মিহি দানা।

পুতুল চন্দ্র বলেন, প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরে ছয়টি রিংয়ে সার উৎপাদন শুরু করেন। এ কাজে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এখন ৩৫টি রিংয়ে প্রতি দুই সপ্তাহ পরে ৭০০ কেজি সার উৎপাদন করছেন তিনি। প্রতি মাসে সার বিক্রি করছেন প্রায় ১৫ হাজার টাকার। কেঁচো বংশবৃদ্ধি করায় অতিরিক্ত কেঁচো তিন মাস অন্তর বিক্রিও করছেন। প্রতি কেজি কেঁচো বিক্রি করেন ১ হাজার ২০০ টাকা দরে।

পুতুলের ভাষ্য, কেঁচো সার উৎপাদনে শুধু শ্রম লাগে। নিজের পাঁচটি গরু থাকায় গোবর কিনতে হয় না। এলাকায় কলার আবাদ হওয়ায় কলাগাছও কিনতে হয় না। বাড়ির কাজের পাশাপাশি স্ত্রীও সহযোগিতা করেন। সামনে আলুর মৌসুম আসছে। ইতিমধ্যে চার টন সারের অর্ডার পেয়েছেন। জেলা হর্টিকালচার অফিসেরও অর্ডার আছে।
একই গ্রামের কচু বালা (৪৫) বলেন, ‘ট্রেনিং নেওয়ার পর সবাই সার তৈরি করোছি। হারা বিক্রি করি না। নিজের তানি সার বানাই। নিজের খেত খামারত দিছি। এই সার দিলি মাটি আলগা হয়, আলুর ফলন ভালো হয়। চালানি সারও কম নাগে।’

পুতুলের কাছে সার কিনতে আসেন সুরেশ কুমার (৪০)। শীতকালীন সবজি চাষের ক্ষেত্রে এই সার খুবই উপকারী বলে জানালেন তিনি। সুরেশ বলেন, কেঁচো সার পরিবেশবান্ধব। দুই বছর থেকে জমিতে তিনি কেঁচো সার ব্যবহার করছেন। এতে ফলনও বেশ ভালো পাচ্ছেন। রাসায়নিক সব সারের গুণ এই কেঁচো সারের মধ্যে আছে।

default-image

দিনাজপুর জেলায় দুই শতাধিক কৃষক কেঁচো সার উৎপাদন করছেন বলে জানান দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ। তিনি বলেন, উদ্ভিদ দেহ হচ্ছে এই সারের মূল উপাদান। এ থেকে সেলুলোজ, হেলি সেলুলোজ, কার্বন কেঁচো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং মলত্যাগ করে। এই সার জমিতে ব্যবহারের ফলে মাটিতে বায়ু চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে গাছের শিকড়ের বৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হয়। শতভাগ কেমিক্যালমুক্ত হওয়ায় জমি ও পরিবেশের জন্য উপকারী। কৃষি বিভাগ থেকেও কৃষকদের কেঁচো সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন