মামলার বাদী ও নিহত যুবকের বাবা চাঁদ আলী বলেন, ছেলে চলে যাওয়ার পর মামলার সূত্রেই এসআই সাগর সিকদারের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। এই পুলিশ কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড ও ব্যবহারে তিনি মুগ্ধ হয়ে নিজের ছেলের জায়গায় তাঁকে স্থান দিয়েছেন। চাঁদ আলী জানান, মামলা তদন্ত করতে গিয়ে তিনি কখনো কাউকে হয়রানি করেননি। বরং সাধ্যমতো তিনি সহযোগিতা করেছেন।

গত ৬ জুন কালীগঞ্জ উপজেলায় কলাবাগান থেকে চাঁদ আলীর ছেলে শাহিন আলমের (৩০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শাহিন বালিয়াডাঙ্গা বাজারে লেদ-গ্রিলের ব্যবসা করতেন। ৫ জুন রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তাঁকে খুন করে একটি কলাখেতের মধ্যে ফেলে রেখে যায়। শাহিনের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী তানিয়া খাতুন তাঁদের ১১ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন।

সাগর সিকদার জানান, খুনিরা ঘটনার মোড় ঘোরাতে শাহিন আলমকে উলঙ্গ করে ফেলে রেখে গিয়েছিল। তবে টাকার ওপর রক্তের দাগ থেকে মাত্র সাত দিনের মধ্যেই তিনি আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ খুঁজে বের করেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেন।

পরে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি টাকা ছিনতাই করতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। তদন্তে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আজ ওই দুজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

সাগর সিকদার জানান, একটি হত্যাকাণ্ডে একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাওয়ার আশা করেন তাঁরা। তাই তিনি ন্যায়বিচার পেতে ওই পরিবারকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি নিজের দায়িত্ব পালন করে দ্রুততম সময়ে হত্যার কারণ উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেছেন। এতে যেন সাধারণ মানুষ হয়রানি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি।

উপহার প্রসঙ্গে সাগর সিকদার বলেন, শাহিনের পরিবারটির যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে মামলার অভিযোগপত্র জমা দিয়ে তাঁদের সান্ত্বনা দিতে তিনি উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন