পুরোনোদের হাতেই ভৈরব উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃত্ব

ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম (বাঁয়ে) ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

ঘটা করে ভৈরব উপজেলা ও পৌর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো গতকাল শনিবার। তবে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসেনি। থাকছেন পুরোনো নেতারাই। তা–ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। আবারও উপজেলা বিএনপির সভাপতি হলেন রফিকুল ইসলাম। ২০০৪ সালে ভৈরব উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদ পান তিনি। এরপর দুই দফা সভাপতি হন। সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক পদে ছিলেন। সম্মেলনের মাধ্যমে ফিরলেন সভাপতির চেয়ারে।

সম্মেলনের মাধ্যমে ভৈরব উপজেলা ও পৌর বিএনপির সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল ২০১৫ সালে। প্রায় দেড় বছর আগে কমিটি দুটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তখন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হন আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। এবারের সম্মেলনেও আগের পদে ফিরে পেলেন তিনি।

ভৈরব পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. শাহিন (বাঁয়ে) ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

একই অবস্থা পৌর বিএনপিতেও। সভাপতি হয়েছেন আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মো. শাহিন। এর আগেও একই পদে ছিলেন তিনি। সদস্যসচিব মজিবুর রহমানও ফিরেছেন তাঁর সাধারণ সম্পাদক পদের চেয়ারে। সম্মেলনে শীর্ষ এ চার নেতার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নেতা-কর্মীদের অধিকাংশই পুরোনোদের নেতৃত্বে রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, এই চারজন দলের নেতা-কর্মীদের আস্থা ও অনুভূতির অংশ। দল ও দলের কর্মী–সমর্থকরা এই চারজনের কাছে অধিক নিরাপদ। তবে ছোট একটি অংশ পুরোনোদের নতুন করে নেতৃত্বে আনাকে ভালো চোখে দেখছেন না। তাঁদের ভাষ্য, এতে দলের নেতৃত্ব সৃষ্টির জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে যাবে। একটি জায়গায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

জিল্লুর রহমান পৌর মিলনায়তনে গতকাল বিকেলে শুরু হয় ভৈরব উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির সম্মেলন। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ।

পৌর ও ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে নেতা–কর্মীরা সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলন কেন্দ্র করে আয়োজকদের পক্ষ থেকে শহরে বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সরণি সড়ক দলীয় পোস্টার, ব্যানার, তোরণে সজ্জিত করা হয়েছিল। সম্মেলনস্থল ছিল দলীয় পোস্টারে আচ্ছাদিত। সম্মেলনে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সব প্রস্তুতি থাকলেও শুরু থেকেই এক পদে একাধিক ছিলেন না। ফলে সমর্থকরা এমন ধারণা পেয়ে যান যে নতুন নেতৃত্বে পুরোনোরাই আসছেন।

নেতৃত্ব নির্বাচনে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় সন্ধ্যায়। তখন জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম দাঁড়িয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রার্থিতা জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। তখন ওই চারজন ছাড়া আর কেউ আগ্রহ দেখাননি। শেষে তিনি চারজনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

পুরোনোদের হাতে নতুন করে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে শরীফুল আলম বলেন, মূলত তাঁদের জনপ্রিয়তার বিপরীতে অন্য কেউ প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চাননি। সেই কারণে তাঁরা আবার নেতৃত্বে এসেছেন। সবচেয়ে বড় কথা তাঁদের বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ নেই। তাঁরা সবার কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।

বারবার নেতৃত্বে ফিরে পাওয়ার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের বক্তব্য হলো, কর্মীদের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ আত্মিক। যতই দিন যাচ্ছে আস্থা ও বিশ্বাসের যোগাযোগ ততটা বড় হচ্ছে। সে কারণে কর্মীরা তাঁর বিকল্প খোঁজ করেন না। একই ভাষ্য সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামেরও। তিনি বলেন, কর্মীদের কাছে নেতার অবস্থান বাইরের না হয়ে ভেতরে হলে যা হয়, তাঁদের বেলায় তাই হয়েছে। এখন কেবল কর্মীদের বিশ্বাস ও আস্থা ধরে রাখার পালা। আগামী এক মাসের মধ্যে ত্যাগী ও সাহসী নেতা-কর্মীদের দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

বারবার একই ব্যক্তি একই পদে বহাল থাকায় নেতৃত্ব বিকাশে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেবে কি না, এমন প্রশ্নে পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান বলেন, ‘যোগ্য নেতা পদ পেলে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথ সহজ হয়। কর্মীরা আমাদের যোগ্য ভেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্বে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছেন। এখন আমরা দলে গতি আনব এবং সুস্থ রাজনীতির চর্চা করব। এর মধ্যে দিয়েই ভালো নেতৃত্বের পথ সুগম হবে।’