লিখিত বক্তব্য ও সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ পৌরসভার নিবন্ধিত হ্যালো বাইক রয়েছে ৫৫০টি। প্রতিবছর এক হাজার টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধন নবায়ন করা হয় এসব গাড়ি। তবে এ বছর গাড়িগুলোর নিবন্ধন বাতিল করে দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এর পরিবর্তে নতুন নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এর বিরুদ্ধে পৌর হ্যালো বাইক মালিক-শ্রমিক সমিতির সভাপতি বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলা হয়, মামলার তোয়াক্কা না করেই আগের নিবন্ধন করা হ্যালো বাইক নবায়ন না করে পৌর কর্তৃপক্ষ নতুন সাত শতাধিক হ্যালো বাইক নিবন্ধন করে দেয়। নতুন নিবন্ধিত প্রতিটি হ্যালো বাইকের মালিকের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নেওয়া হয়। এসব টাকা কাউন্সিলর ও মেয়রের মধ্যে বণ্টন করা হয়। পুরোনো নিবন্ধিত হ্যালো বাইক মালিক-চালকেরা উৎকোচ দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদেরকে নম্বরপ্লেট ও চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কারও কারও হ্যালো বাইক না থাকলেও টাকার বিনিময়ে তাঁদেরকে নম্বরপ্লেট দেওয়া হয়েছে। আবার অনেককে একাধিক নম্বরপ্লেট দেওয়া হয়েছে।

পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী হ্যালো বাইক মালিক ও চালক ইউসুফ আলী বলেন, ১০ বছর ধরে পৌর এলাকায় হ্যালো বাইক চালিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করে আসছেন। তাঁর নিবন্ধন নম্বর ১৭০। এ বছর তাঁর হ্যালো বাইকের নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। লাইসেন্সের জন্য ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূরুল ইসলাম এবং পৌর মেয়র রমজান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি।

এসব বিষয়ে পৌর মেয়র রমজান আলী বলেন, সব হ্যালো বাইকের নম্বরপ্লেট দেওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের সুপারিশের ভিত্তিতে শহরে শৃঙ্খলা আনতে নতুন করে হ্যালো বাইকের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। যাঁরা নিবন্ধন পাননি, তাঁরা এসব মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন