কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামতকাজ শেষ না করেই প্রধান শিক্ষক ও কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতিদের স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক ও কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতিদের সই জাল করে ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পিইডিপি-৪-এর অধীনে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে উপজেলার নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার করার কাজ পায় মেসার্স খাজা গরীবে নেওয়াজ ট্রেড অর্গানাইজেশন এবং মেসার্স এম আই কনস্ট্রাকশন নামের দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৭ লাখ, তালেরছেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৭ লাখ, গোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৬ লাখ, টামটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৬ লাখ, চরগোয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৬ লাখ, বাজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৬ লাখ ৪৫ হাজার, জিংলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৫ লাখ, নৈয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৫ লাখ ও তিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মেসার্স এম আই কনস্ট্রাকশন জিংলাতলী, নৈয়ার, তিনপাড়া ও গোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতকরা ৬০ ভাগ এবং মেসার্স খাজা গরীবে নেওয়াজ ট্রেড অর্গানাইজেশন অবশিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর শতকরা ৪০ কাজ শেষ না করেই ২০২০ সালের জুন মাসে ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা তুলে নিয়ে গেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী আহসানের সহযোগিতায় প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিদের সই জাল করে টাকা নিয়ে যায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সংস্কারকাজ এখনো শেষ হয়নি।

বিজ্ঞাপন
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শতকরা ৬০ ভাগ কাজও শেষ করেনি। অথচ প্রধান শিক্ষক ও আমার স্বাক্ষর জাল করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বিল তুলে নিয়ে গেছে।
নূরজাহান বেগম, তিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
default-image

তিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরজাহান বেগম ও কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সভাপতি রকিব উদ্দিন সরদার বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শতকরা ৬০ ভাগ কাজও শেষ করেনি। অথচ প্রধান শিক্ষক ও আমার স্বাক্ষর জাল করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বিল তুলে নিয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে মেসার্স খাজা গরীবে নেওয়াজ ট্রেড অর্গানাইজেশনের মালিক মো. রমজান বলেন, ‘কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলনের করায় আমাদের ভুল হয়েছে। তবে আমরা অসম্পূর্ণ কাজগুলো অবশ্যই শেষ করে দিব।’

এ বিষয়ে দাউদকান্দির বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘তৎকালীন প্রকৌশলী কেন এ ধরনের কাজ করেছেন, তা আমার জানা নেই। আমার সময় এ ধরনের কাজের সুযোগ নেই।’

দাউদকান্দির সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিদ্যালয়গুলোর সংস্কারকাজের অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ সেলিম শেখ বলেন, প্রাথমিকভাবে কাজ না করে এবং প্রধান শিক্ষক ও নির্বাহী কমিটির সভাপতিদের সই জাল করে ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা তাঁদের ভুল স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলীর অবহেলার প্রমাণও মিলেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন