বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১টা থেকে তাঁর স্ত্রী ছালেহা বেগম ও তাঁর ছেলে জুবায়ের তালুকদারকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বাড়ির আশপাশে বিভিন্ন স্থানে ও স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে বাড়ির পাশের গোয়ালঘরে ছালেহা বেগমকে দেখতে পান সাগির হোসেন। এ সময় ছালেহা বেগম বালতির পানির মধ্যে তাঁর ছেলেকে উল্টোভাবে চুবিয়ে ধরে ছিলেন। এ দৃশ্য দেখে সাগির হোসেন চিৎকার করলে সেখান থেকে ছালেহা বেগম দৌড়ে পালিয়ে যান। এরপর ওই শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনার পরদিন সাগির হোসেন তালুকদার বাদী হয়ে তাঁর স্ত্রী ছালেহা বেগমকে একমাত্র আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই ছালেহা বেগমকে গা ঢাকা দেন। ঘটনার ছয়দিন পর গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গৌরনদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদারীপুর সদরে ছালেহা বেগমের এক স্বজনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।

ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ছালেহা বেগম নিজের সন্তানকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কী কারণে তিনি হত্যা করেছেন, এ ব্যাপারে তিনি মুখ খোলেননি। আজ সকালে তাঁকে বরিশাল আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এদিকে ছালেহা বেগমের চাচা মোশারফ হোসেন ও মামি জাহানারা বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃতীয় সন্তান জুবায়ের তালুকদারের জন্মের পর থেকে ছালেহা বেগম মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন। তিনি প্রায়ই অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ছালেহা বেগম সন্তানকে হত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন