বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সৈয়দ শামীম আহমদ প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযোগপত্র দাখিলের প্রায় চার মাস পর ১৩ সেপ্টেম্বর এটি গ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ছিল। মামলার নথি অন্য আদালতে থাকায় আজ নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছিল। সরকারি কৌঁসুলি জানান, অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আদালতে অভিযোগ গঠনের তারিখ ধার্য করা হবে। এরপর বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই (সাময়িক বরখাস্ত) আকবর হোসেনকে প্রধান আসামি অভিযুক্ত করা হয়।

অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাঁড়ির টুআইসি পদে থাকা সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও এসআই আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)। নোমান ছাড়া বাকি সবাই বর্তমানে কারাগারে।

গত বছরের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরের দিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রীর করা মামলায় মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়। ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেনসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। তবে প্রধান অভিযুক্ত আকবর ১৩ অক্টোবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান। ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্র দাখিল করার পর আদালতে পর্যালোচনার কাজ করোনা পরিস্থিতির কারণে পিছিয়েছে। এর মধ্যে ভার্চ্যুয়াল আদালতে প্রধান অভিযুক্ত আকবরসহ কারাবন্দী তিন পুলিশ সদস্যের জামিন আবেদন করা হয়। ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বিরোধিতায় জামিন নামঞ্জুর হয়। সবশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ২ নম্বর আসামি বরখাস্ত হওয়া সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহীর (৪৩) পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে শুনানি শেষে নামঞ্জুর হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন