default-image

মাদারীপুরের কালকিনিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় পুলিশের ওপর হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন ও সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে লক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজনকে আজ সন্ধ্যায় মাদারীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক ফয়সাল আল-মামুন তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে লক্ষ্মীপুরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। ফলে পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে লক্ষ্মীপুর এলাকাটি এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় এখনো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন ওরফে কেন্দু কাজীর সঙ্গে একই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক ব্যাপারীর আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই দুই পক্ষের মধ্যে এর আগেও একাধিক সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার রাতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল ব্যাপারীর নেতৃত্বে তাঁর সমর্থকেরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তোফাজ্জেল হোসেনের পক্ষের লক্ষ্মীপুর বাজারে ২৫টি দোকানপাট কুপিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করেন। পরে দুই পক্ষের লোকজনই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০টি বসতঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় উভয় পক্ষই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজন পুলিশ আহত হন। এ ছাড়া দুই পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ওপর হামলা ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটনায় গতকাল খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আলী হোসেন বাদী হয়ে কালকিনি থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলায় ১০৬ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আসফাক প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুরে সংঘর্ষের মূল হোতা বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত বাকি ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষের লোকজনই ক্ষতিগ্রস্ত। তবে কোনো পক্ষই এখনো থানায় কোনো এজাহার দেয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন