নিহত বাবুর মা লিলি বেগম বলেন, ‘পুলিশ আমাগো বাড়িতে আইসা বাবুরে খোঁজ করছে। গত রোববার রাতে আমার পোলারে ধাওয়া দেওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। আমার পোলারে না পাইয়া থানায় গিয়া জিডি করছি। আমি পোলা হত্যার বিচার চাই।’

স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বন্দর উপজেলার বাগবাড়ি এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আবুল কাউসারের কাছে আহমেদ বাবুর বিরুদ্ধে এক নারী নালিশ দেন। বিষয়টি সুরাহা না হলে ওই নারী থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার রাত ৯টার দিকে আহমেদ বাবুকে ধরতে যায় এসআই রওশন ফেরদৌসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ।

পুলিশের ধাওয়ায় বাবু বাড়ির পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। চার দিন পর বুধবার দুপুরে বাবুর লাশ ভেসে ওঠে পুকুরে। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশটি উদ্ধার করেন।

বাবুর ছোট ভাই ইমন আহম্মেদ বলেন, তাঁর ভাইকে শুধু শুধু পুলিশ হয়রানি করেছে। পুকুরের মধ্যে তাঁর ভাইকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারা হয়েছে। পুলিশের ধাওয়ায় পানিতে ডুবে ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ভাই হত্যার বিচার চান।

সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কাউসার আহম্মেদ বলেন, বাগবাড়ি এলাকার হাসিনা বেগম নামের এক নারী আহমেদ বাবুর প্রতিবেশী। কিছুদিন আগে হাসিনার বাড়িতে পরিচিত এক স্বজন আসেন। তখন বাবুসহ আরও কয়েকজন সেখানে গেলে তাঁদের মধ্যে বিরোধ হয়। এ নিয়ে হাসিনা অভিযোগ দিতে এলে তাঁকে থানায় যেতে বলা হয়। এরপর তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ দেন। আজ তিনি শোনেন পুলিশের ধাওয়ায় পুকুরে ডুবে বাবু মারা গেছেন।

নিহত আহমেদ বাবুর বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা আছে বলে জানিয়েছেন ওসি দীপক সাহা। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম বলেন, পুলিশের ভয়ে পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বন্দর ফাঁড়ি পুলিশের এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন