default-image

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় হাইওয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অটোরকিশা খাদে পড়ে যায়। এতে প্রাণ হারিয়েছেন অটোরিকশাচালক তোফায়েল মিয়া (২২) ও আহত হয়েছেন ওই অটোরিকশার তিন যাত্রী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাগানবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পরপরই অটোরিকশাচালক ও শ্রমিকেরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। এই ঘটনার জেরে স্থানীয় লোকজন এক ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানসী গ্রামের অটোরিকশাচালক তোফায়েল মিয়া তিন যাত্রী নিয়ে জেলার বাহুবল উপজেলায় যাচ্ছিলেন। পথে বাহুবল উপজেলা সদরের পুলিশের তল্লাশিচৌকি অতিক্রমকালে পুলিশ তাঁকে অটোরিকশা থামানোর জন্য সংকেত দেয়। কিন্তু তিনি দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করছিলেন। এ সময় শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার পুলিশ তাদের গাড়ি দিয়ে ওই অটোরিকশার পেছনে ধাওয়া করে।

বিজ্ঞাপন
একদল অটোরিকশাশ্রমিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে ক্ষুব্ধ লোকজন তাঁর মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেন।

একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশা নিয়ে মহাসড়কের পাশে বাগানবাড়ি এলাকায় একটি খাদে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার চালক তোফায়েল মিয়া (২২) প্রাণ হারান। গুরুতর আহত হন অটোরিকশার আরোহী মাসুদা বেগম (৩৫), আজগর আলী (৬০) ও মুসলিম উদ্দিন (৪০)। আশপাশের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে বাহুবল উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য।

এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে একদল অটোরিকশাশ্রমিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা অবরুদ্ধ করে রাখেন মহাসড়ক। এ সময় ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে ক্ষুব্ধ লোকজন তাঁকে ধাওয়া করে তাঁর মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন।

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্নিগ্ধা তালুকদার ও পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী বেলা ২ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিলে অটোরিকশাচালকেরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। বেলা ২ টার পর এ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে নিহত হন। আহত হন তিনজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
এ দুর্ঘটনার বিষয়ে কথা বলার জন্য শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন