বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় পায়রা বন্দর নৌপুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে চার পুলিশ সদস্য একটি ট্রলার নিয়ে রাবনাবাদ চ্যানেলের পাড়ে বালিয়াতলী ইউনিয়নের ঢোস এলাকায় যান। এরপর পুলিশের ওই দল সুজন হাওলাদারের ট্রলারকে ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে সুজনের ট্রলারটি পুলিশ সদস্যরা ধরে ফেলেন। এ সময় পুলিশ সুজনকে এলোপাতাড়ি লাথি মারে ও বেধড়ক পেটায়। এতে তিন অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং ট্রলারেই মারা যান।

সুজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এএসআই মামুনুর রশিদসহ সঙ্গে থাকা তিন কনস্টেবলকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে দুপুর ১২টার সময় কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশাদুর রহমানসহ অতিরিক্ত ১৫-২০ জন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এরপরও বিক্ষুব্ধ জনতা জেলের মৃত্যুর জন্য পুলিশকে দায়ী করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে ঘটনাস্থলে আরও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ছয় ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে একটি ট্রলারে করে কলাপাড়া থানায় নিয়ে আসা হয়।

সুজন হাওলাদারের মামা ইব্রাহিম খলিল একজন মাছ ব্যবসায়ী। তাঁর আড়তটি ঢোস এলাকার বাঁধের ঢালে। ওই আড়তের পেছনেই নদী থেকে মাছ ধরে জেলেনৌকা, ট্রলার এসে ভেড়ে। তিনি বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার সময় পুলিশের বাঁশির শব্দ পেয়ে আড়ত থেকে পেছনে তাকিয়ে দেখেন, একটি মাছ ধরা ট্রলারের ওপর তিন-চারজন পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আর ট্রলারের ওপর সুজনের দেহ পড়ে আছে। কেউ সেখানে ভয়ে কাছে যাচ্ছিলেন না। পরে তিনিসহ কয়েকজন ওই ট্রলারটির কাছে যান। তাঁরা ধরাধরি করে সুজনকে ওপরে তুলে আনেন। এরপর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এএসআই মামুনুর রশিদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে অন্য একজন গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, পুলিশ দেখে একটি ট্রলারে থাকা কয়েক জেলে দ্রুত তাঁদের ট্রলারটি চালিয়ে কিনারে ভিড়িয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় একজনকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যান।

পায়রা বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, পুলিশের দলটি ওই সময় রাবনাবাদ চ্যানেলে নিয়মিত টহল দেওয়ার জন্য বের হয়েছিল। সুজনের ট্রলারটিতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল থাকতে পারে, এমন সন্দেহ করে ধরার জন্য ধাওয়া করে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে সুজন ট্রলারটি দ্রুত চালিয়ে সরে পড়ার চেষ্টা করেছিল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহসীন হাওলাদার বলেন, স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে শুনেছেন, সুজনের ট্রলারে মামুন, সেলিম, তারেক ও মাসুদ নামের চার জেলে ছিলেন। পুলিশ অপর একটি ট্রলার নিয়ে ধাওয়া করে সুজনের ট্রলারটি ধরে ফেলে। তারা সুজনকে ধরেই মারতে থাকে। এতে সুজন অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান এবং মারা যান।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সায়েমা সুলতানা বলেন, ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত করা হলেই জানা যাবে।

কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহম্মেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের মারধরে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন বলে স্থানীয় জনগণ তাঁদের কাছেও অভিযোগ করেছেন। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনার জন্য পুলিশ বা সাধারণ মানুষ যেই দায়ী থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলায় স্থানীয় জনগণ আশ্বস্ত হয়েছেন। এরপর নৌপুলিশ সদস্যদের আটকে থাকা ট্রলার থেকে নিয়ে আসা হয়। তিনি আরও বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন