বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ রোববার কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা এই দাবি করেন। তাঁদের বাড়ি মিরপুর উপজেলায়। গত ১৫ জুলাই বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে একটি মাঠ থেকে উম্মে ফাতেমার (১৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় ওই দিনই ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় স্কুলছাত্রীর বাবা মামলা করেন। তবে স্কুলছাত্রীর বাবা ৯ আসামির নাম উল্লেখ করে দিতে চাইলেও পুলিশ তাঁকে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করে। এমনকি ওই স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ করতে চাইলেও পুলিশ মামলা থেকে তা বাদ দিতে তাঁকে বাধ্য করেছে।

এ বিষয়ে আজ দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মেয়েকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যার পর লাশ মাঠে ফেলে রাখা হয়। ওই সময় পুলিশের কাছে বারবার আসামিদের নাম উল্লেখ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সে কথায় কোনো কর্ণপাত করেনি। উল্টো পুলিশ তাঁকে ধমক দিয়ে গভীর রাতে তাদের (পুলিশের) লেখা এজাহারে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।

চিকিৎসকদের দেওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, মেয়েকে হত্যা করার আগে ‘গণধর্ষণ’ করা হয়েছে।

সম্প্রতি ওই স্কুলছাত্রীর বাবা আদালত থেকে মেয়ের লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুলিপি আইনজীবীর মাধ্যমে উত্তোলন করেন। আজ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ওই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেখিয়ে তিনি বলেন,চিকিৎসকদের দেওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, মেয়েকে হত্যা করার আগে ‘গণধর্ষণ’ করা হয়েছে।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ রয়েছে, ওই স্কুলছাত্রীর গলায় রশি দিয়ে প্যাঁচানোর কারণে গোল দাগ রয়েছে। বাঁ চোখের নিচেও আঘাতের কারণে রক্ত জমাট বাঁধা ছিল। পেটে দুটি, গলায় পাঁচটি ও কোমরের ওপর মেরুদণ্ড বরাবর তিনটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘাড়ের পেছন দিকে ৬টি ও ডান পায়ের পাতার ওপর ৬টিসহ মোট ১২টি স্থানে আগুন দিয়ে পোড়ানোর ক্ষতও রয়েছে।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৩ জুলাই ভোর চারটার সময় ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। হাসপাতালের রেকর্ড থেকে জানা যায়, ১৪ জুলাই সকালে উদ্ধার হলেও ওই স্কুলছাত্রীর লাশ সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই স্কুলছাত্রী মূলত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই মারা গেছে।

ময়নাতদন্তে পাওয়া আলামতের কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, এক অদৃশ্য কারণে তাঁর মেয়ের হত্যার মূল ঘটনাকে পুলিশ আড়াল করছে। একজন আসামি ছাড়া পুলিশ আর কাউকে ধরছে না। মামলাটি তিনি পিবিআই বা সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান।

দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, মামলায় আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত না করা এবং পুলিশের লেখা এজাহারে স্কুলছাত্রীর বাবাকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করার অভিযোগের বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন,‘ফাতেমার বাবার অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি মিথ্যা বলেছেন। আর চিকিৎসক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যেটা দিয়েছেন, সেটা তাঁদের বিষয়। আমরা ওই ছাত্রীর ফরেনসিক প্রতিবেদন করতে ঢাকায় নমুনা পাঠিয়েছি। প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না।’

মিরপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, এ মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত চলছে। পিবিআই বা অন্য কোনো সংস্থার কাছে মামলাটি গেলে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন