মাদারীপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমাপ্তিসহ আরও ৫ তরুণী ও ২৮ তরুণ এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এ ছাড়া ৮ জনকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি)-২০২২ পরীক্ষায় জেলা থেকে মাত্র ১২০ টাকা ফি দিয়ে ১ হাজার ১২৪ জন প্রার্থী অনলাইনে আবেদন করেন। পরে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে তিনটি ধাপ পেরিয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১১৭ জন। চূড়ান্ত ফলাফলে নতুন ৩৩ জন কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত নয়টার দিকে জেলা পুলিশ লাইনসে ড্রিল শেড মিলনায়তনে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় নির্বাচিত প্রার্থীদের মাদারীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়।
চাকরি পরীক্ষায় সমাপ্তি প্রথম হওয়ার খবর শুনে পুলিশ লাইনসে আসেন সমাপ্তির বাবা রবি ভক্ত ও মা বিউটি রীনা সরকার। দুজনের চোখে ছিল আনন্দের কান্না।

default-image

সমাপ্তির বাবা রবি ভক্ত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার তিন মেয়ে আর এক ছেলে। মেয়েদের মধ্যে সমাপ্তি ছোট। বড় দুই মেয়েকে জমিজমা বেচে বিয়ে দিয়েছি। ছেলেডা ছোট। পরিবারে কেউ চাকরিজীবী নেই। সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হইত। মেয়েডার পড়ালেখা করার অবস্থায় চাকরিডা হইছে। তাতেই আমি মেলা খুশি।’

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল রানা ও ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সুমিনুল রহমান। এ ছাড়া মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) চাইলাউ মারমা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) লিমন রায়।

নতুন কনস্টেবল নিয়োগে পুরুষদের মধ্যে প্রথম হয়ে চাকরি পাওয়া আলী হোসেন বলেন, ‘আমি স্কুলজীবন থেকেই স্বপ্ন দেখেছি পুলিশ হওয়ার। কিন্তু পুলিশের চাকরি পেতে হলে লাখ লাখ টাকা লাগে শুনে আর আবেদন করা হয়নি। কিন্তু সাহস রেখে মাত্র ১২০ টাকা খরচে এবারই আবেদন করি। প্রথমবার আবেদন করেই আমার স্বপ্ন পূরণ হলো। আমার পরিবারসহ আমি অনেক খুশি।’

জানতে চাইলে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে আইজিপির উদ্যোগে সম্পূর্ণ নতুন নিয়মে কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে তাঁদের বাড়তি এক টাকাও ব্যয় হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন