বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ফিরোজ ব্যাপারীর সঙ্গে কথা হয়। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলতে থাকেন, ‘গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে ভ্যানগাড়ি নিয়া বের হই। সুপার মার্কেট এলাকায় আসলে ট্রাফিক পুলিশ বজলুর রহমান স্যারসহ কয়েকজন আমার গাড়িটা আটকে দেয়। তারা ট্রাফিক অফিস ভ্যান নিয়ে যায়। আমার সঙ্গে আরও দুইটা গাড়ি নিয়া যায়। তারা ৫০০ টাকা দিয়া ভ্যান গাড়ি ছাড়াইয়া নেয়। আমার পকেটে এক টাকাও ছিল না। আমি ভ্যানগাড়ি ছাড়াইতে টাকা দিতে পারি নাই। আমি অনেক কানছি। পুলিশের হাতেপায়ে ধরছি। বলছি আমার কাছে টাকা নাই। এই ভ্যান গাড়ি চালাইয়া যা টাকা পাই, তা দিয়া আমার ছয়জনের সংসার চলাই। তারা আমার কোনো কথা শোনে নাই। আমার গাড়ি আটকাইয়া রাখছে।’

আমি অনেক কানছি। পুলিশের হাতেপায়ে ধরছি। বলছি আমার কাছে টাকা নাই। এই ভ্যান গাড়ি চালাইয়া যা টাকা পাই, তা দিয়া আমার ছয়জনের সংসার চলাই। তারা আমার কোনো কথা শোনে নাই। আমার গাড়ি আটকাইয়া রাখছে।
ফিরোজ ব্যাপারী, ভ্যানচালক

শীর্ণ দেহের ফিরোজ ব্যাপারী কথাগুলো বলছিলেন, আর চোখ মুছছিলেন। তিনি বলেন, তাঁর ৮০, ৪০ ও ৩০ হাজার টাকার তিনটি কিস্তি আছে। কিস্তি বাবদ সপ্তাহে ৩ হাজার টাকা দিতে হয় তাঁকে। ৫০০ টাকার কম হলে সংসার চলে না। এর মধ্যে এক মাস বয়সী মেয়ের দুধ, ওষুধ খরচ, তাঁর বৃদ্ধ মায়ের ওষুধ খরচ সবকিছুই এই ভ্যানগাড়ির আয়ের টাকায় চলে।

ফিরোজ বলেন, ‘তিন দিন ধরে ঘুরতাছি, কেউ আমার গাড়ি দিতাছে না। দিন আইন্না দিন খাই। আমার গাড়ি তিন দিন দইরা বন্ধ। আমার সংসার চলে না। বউ-পোলাপাইন লইয়া খুব কষ্ট করতাছি। আগামী শনিবার দুই হাজার টাকার কিস্তি আছে। আমি কেমনে কী করমু?’

এ সময় আরও কয়েকজন রিকশা-ভ্যানের চালক বলেন, কিছু হলেই ট্রাফিক পুলিশ তাঁদের গাড়ি নিয়ে আটকে রাখেন। জরিমানা করেন। এই গাড়ি দিয়ে তাঁদের সংসার চলে। তাঁদের হাতে-পায়ে ধরলেও জরিমানা ছাড়া তাঁদের গাড়ির ছাড়ে না। একজন বলেন, ‘তাদের তো কোনো সমস্যা নেই। না খেয়ে থাকলে আমাদের থাকতে হয়। কষ্ট করলে আমাদের কষ্ট করতে হয়।’

ভ্যানগাড়ি আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) বজলুর রহমান বেলা ১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভ্যানগাড়ি চালকেরা রাস্তায় বালু ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছিল। এ জন্য পুলিশ কয়েকটি গাড়ি আটকে রাখে। কোন পুলিশ আটক করেছে, আমার জানা নেই। পরে সতর্ক করে দুটি গাড়ি ছাড়া হয়।’ ফিরোজ ব্যাপারীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ পুলিশ অসংখ্য গাড়ি আটক করে রেখেছে। সে হিসেবে আমরা তো আটকই করি না। ওই লোকটি আসলে গাড়ি ছেড়ে দেব।’

আধঘণ্টা পর পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, আনোয়ার নামের এক ব্যক্তির কাছে ফিরোজের ভ্যান দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন