বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবদুর রাজ্জাক, আবু হানিফসহ চার থেকে পাঁচজন জানান, সিএনজি চালিয়ে সারা বছর আয় কম হয়ে বলে ঈদের সময়ে তাঁরা কিছুটা বাড়তি আয়ের আশায় থাকেন। এ ছাড়া কাজীরহাট পর্যন্ত যাত্রীর ব্যাপক চাপ থাকলেও ফেরার পথে প্রায় খালি আসতে হয়। তাই কিছুটা বেশি ভাড়া নিচ্ছেন।

পাবনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ব্যাপারে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনের মালিক ও চালকদের সতর্ক করা হয়েছে।

এই অতিরিক্ত ভাড়া শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোই আদায় করছে না, যাত্রীবাহী বাস এবং ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাসগুলোও আদায় করছে। এভাবে অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা বাধ্য হচ্ছেন বেশি ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, বেড়া থেকে পাবনা পর্যন্ত বাসের ভাড়া ৮০ টাকা। অথচ শনিবারও ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়। বেড়া থেকে পাবনাগামী আরিফ পরিবহনের হেলপার কামাল হোসেন হেসে বলেন, ঈদ বোনাস হিসেবে সবাই ভাড়া একটু-আধটু বাড়ায়।

এদিকে ভাড়ায়চালিত মাইক্রোবাস ও কারের ভাড়া ঈদের পর দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে। ঈদের আগেও বেড়া থেকে পাবনা পর্যন্ত মাইক্রোবাসের ভাড়া ছিল সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা। কয়েক দিন ধরে সেই ভাড়া সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা, রাজশাহীসহ অন্যান্য স্থানের যাতায়াতের ভাড়াও এভাবে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় ভাড়ায়চালিত মাইক্রোবাসের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাইক্রোবাসের মালিক ও চালকেরা ভাড়া বাড়িয়েছেন। বেড়া উপজেলা মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. আনু বলেন, রোজার সময় সব গাড়ি বসে ছিল বলে তখন সবারই লোকসান হয়েছে। এ ছাড়া গ্যাসের জন্য ফিলিং স্টেশনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা দেরি করে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। আবার পাম্পেও পেট্রল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ভাড়া একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে।

তবে পাবনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ব্যাপারে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনের মালিক ও চালকদের সতর্ক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ঈদের আগে থেকেই পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন সভার মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মহাসড়কেও পুলিশের টহল রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যেও চলছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়।

বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্লোল কুমার দত্ত বলেন, ‘কেউ যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে, সে জন্য আমাদের টহল পুলিশ কয়েকটি স্থানে দায়িত্ব পালন করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে আমাদের ফোন নম্বর দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে যাত্রীদের অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন