আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, রাজশাহী কোর্ট কলেজের এক ছাত্র ‘বাসা ভাড়া’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য পোস্ট দেন। সেখানে ওই ছাত্র তাঁর মুঠোফোর নম্বরজুড়ে দেন। এই পোস্ট দেখে শরিফা আক্তার নামের এক নারী ছাত্রকে বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য ফোন দেন। এরপর ১৩ এপ্রিল ওই ছাত্র নগরের কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম পূর্বপাড়া এলাকায় ওই নারীর বাসায় যান। ওই নারী তাঁকে বাসাটি ঘুরিয়ে দেখান।

একপর্যায়ে ওই নারী ছাত্রকে বাসা দেখানোর কথা বলে নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে কৌশলে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় শরীফা ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে থানায় নেওয়ার হুমকি দিয়ে ওই ছাত্রকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন তাঁরা।

default-image

পুলিশ কমিশনার বলেন, তখন ওই ছাত্রকে আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পরে ওই ছাত্রের কাছে থাকা অর্থ ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ১৪ হাজার ৯০০ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পরে ওই ছাত্র কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা করলে গতকাল বিকেল থেকে রাতভর অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজশাহী মহানগর ডিবির উপকমিশনার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, চক্রটি আগেও এ ধরনের অপহরণের নাটক সাজিয়ে পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করেছে। এটা তাঁদের চতুর্থ ঘটনা। তাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি, পুলিশের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহারের অভিযোগে পৃথক মামলা হবে। আজ বিকেলে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন