বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৯টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে চন্দ্রপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুস সালাম ও বিনোদপুর ইউপিতে হামিদ সাকিদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আর সই জাল করে সদস্যপ্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চিতলিয়া ইউপির নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। আর সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে রুদ্রকর ও তুলাসার ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ও জামাল হোসাইন নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে আংগারিয়া ইউপিতে আনোয়ার হোসেন, পালং ইউপিতে আজাহার হোসেন খান, শৌলপাড়ায় মো. ভাষানি, মাহমুদপুরে শাহজাহান ঢালী ও ডোমসারে মজিবুর রহমান জয়ী হয়েছেন।

আজ বেলা সাড়ে ১১টায় শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের পাঁচ পরাজিত প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করেন। আংগারিয়া ইউপিতে নৌকার প্রার্থী আসমা আক্তার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা আমার সঙ্গে ছিলেন না। তাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে থেকে নৌকা পরাজিত করেছেন। ভোটের আগে ও ভোটের দিন পুলিশ আমাদের কোনো সহায়তা করেনি।’

পুলিশ ভোটকেন্দ্রের কাছ থেকে নৌকার সমর্থকদের তাড়িয়ে দিয়েছে এবং লাঠিপেটা করেছে বলে অভিযোগ করেন পালং ইউনিয়নের আবুল হোসেন দেওয়ান।

শৌলপাড়া ইউপির আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী নৌকার পক্ষে কাজ করেননি। নেতাদের বারবার জানিয়েও কোনো সহায়তা পাইনি। আর পুলিশ ভোট গণনার সময় আমার এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। পুলিশের সহায়তা নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী আমার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।’ এ সময় তিনি পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান।

এ সম্পর্কে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা দলীয় প্রার্থীদের পাশে না থাকায় পাঁচ ইউপিতে দলের প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে, তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কেন দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছে, তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরাজিত প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, পুলিশ কেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। এজেন্টদের বের করা দেওয়া পুলিশের কাজ নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দেখেছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ অমূলক।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। কোনো কোনো প্রার্থী হয়তো তাঁদের মতো করে সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে এখন এসব অভিযোগ করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন