ফাঁড়িতে ভাঙচুর ও পুলিশকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় অভিযুক্ত তিন বোন হলেন বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকার রেখা (৫২), সূর্য বেগম (৪২) ও দুলি বেগম (৪০)।

এসআই খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার আফরোজা বেগম নামে এক গৃহিণী সাংসারিক প্রয়োজনে সূর্য বেগমের কাছ থেকে এক বছর আগে চড়া সুদে ৩১ লাখ টাকা ধার নেন। আফরোজার দাবি, তিনি সুদে–আসলে ইতিমধ্যে ৫৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু তাঁর কাছে আরও ৪৪ লাখ টাকা দাবি করে আসছেন সূর্য বেগমেরা। মাসখানেক আগে তিন বোন রেখা, সূর্য ও দুলি ওই গৃহিণীর বাসায় গিয়ে চড়াও হন। একপর্যায়ে ভাঙচুর ও হামলা চালানো হলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’–এ ফোন করে অভিযোগ জানান।

অভিযোগ পেয়ে ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিন বোনকে নিবৃত্ত করেন এসআই খোরশেদ। পাশাপাশি টাকাপয়সার লেনদেন থাকলে আইনের আশ্রয় নেওয়ারও পরামর্শ দেন।

এসআই খোরশেদ আলমের ভাষ্য, দাদন ব্যবসায়ী ওই তিন বোন আফরোজা বেগমের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে দিতে তাঁকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় রোববার বিকেলে তাঁরা সদর ফাঁড়িতে এসে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং অফিস কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা খোরশেদের কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় নারী পুলিশ সদস্যরা এসে তিন বোনকে আটক করে সদর থানা হেফাজতে নেন।

বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক তাজমিলুর রহমান বলেন, কারও পাওনা টাকা উদ্ধার করে দেওয়া পুলিশের কাজ নয়। আফরোজা বেগমের কাছে পাওনা থাকলে তাঁরা আদালতের আশ্রয় নিতে পারতেন। তা না করে তিন বোন পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন, এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আফরোজা বেগম বলেন, তাঁরা তিন বোনই চিহ্নিত দাদন ব্যবসায়ী। সাংসারিক প্রয়োজনে বছরখানেক আগে তাঁদের কাছ থেকে ৩১ লাখ টাকা ধার নিয়ে এ পর্যন্ত সুদসহ ৫৮ লাখ টাকা শোধ করেছেন। কিন্তু তাঁরা শুধু সুদ বাবদই ৬১ লাখ টাকা দাবি করছেন। দাবির টাকা না পেয়ে মাসখানেক আগে তাঁরা বাসায় গিয়ে হামলা ও মারধর করেন। ৯৯৯–এ অভিযোগ করার পর পুলিশ গিয়ে তাঁকে রক্ষা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন