বিয়ের পর এটি সুরাইয়া আক্তারের প্রথম সন্তান। ১০ হাজার টাকা ঋণ করে হাসপাতালের অস্ত্রোপচারের খরচ পরিশোধ করেছিলেন। ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে ঋণের সুদ পরিশোধ করছেন। জন্মের পর থেকেই সন্তান বুকের দুধ পাচ্ছে না। প্রতিদিন ৮০ টাকার দুধ কেনেন। চিকিৎসক বলেছিলেন পুষ্টিকর খাবার খেতে। পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছেন কি না, প্রশ্নে সুরাইয়া বলেন, ‘সুদের টেহা জোগাইতেই জান যায়, পুষ্টিকর খাওন খাইয়াম কিবায়। আফনে যে কিতা কইন।’

স্বামী যেদিন কাজ পান, সেদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। সেই টাকা থেকে দৈনন্দিন সংসার খরচ, সন্তানের দুধের খরচ, ঋণের আসল ও সুদের টাকা জমানো ইত্যাদি খাতে রাখার পর আর হাতে কিছু থাকে না।

সুরাইয়া বলেন, তাঁর স্বামী আনোয়ার হোসেন রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করেন। তবে এতেও কুলোয় না বলে যখন যে কাজ পান, তাই করেন তাঁর স্বামী। সিজারের খরচ মেটাতে তাঁর স্বামী গ্রামের এক মহাজনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকার যে ঋণ করেছেন, তার জন্য ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে সুদ পরিশোধ করে আসছেন। আসল তো বাকি রয়েছেই। স্বামী যেদিন কাজ পান, সেদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। সেই টাকা থেকে দৈনন্দিন সংসার খরচ, সন্তানের দুধের খরচ, ঋণের আসল ও সুদের টাকা জমানো ইত্যাদি খাতে রাখার পর আর হাতে কিছু থাকে না। তখন তাঁদের কম কম খেতে হয়। বিলাসিতা বলতে তাঁদের কিছু নেই। অস্ত্রোপচার করার পর চিকিৎসক তাঁকে পুষ্টিকর খাবার খেতে বলেছিলেন। সুরাইয়া মলিন মুখে বলেন, ‘কইনছেন দেহি কিবায় পুষ্টিকর খাওন খাইতাম। বুজুইন না আমরা তো গরিব মানুষ। পুষ্টিকর খাওনের দাম আছে না?’

সুরাইয়া আরও বলেন, গত কোরবানির ঈদের পর থেকে তিনি ও তাঁর স্বামী গোশত খাননি। তবে মাঝেমধ্যে বাবার বাড়িতে এলে ভাইয়ের পরিবারে যদি পোলট্রি মুরগির মাংস রান্না হয়, তাহলে ভাবিরা তাঁদের দু-এক টুকরা মাংস পাতে দেন। তবে তাঁর দুই ভাইও শ্রমজীবী।

সুরাইয়া বলেন, তাঁর পরিবার টিসিবি পণ্য কেনার ফ্যামিলি কার্ড পায়নি। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতেও তাঁকে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। তাঁর গ্রামের অনেক সচ্ছল পরিবারের মায়েরা সরকারের নানা প্রকল্প থেকে সহায়তা পাচ্ছেন। তাঁকে দুস্থ মাতার (ভিজিডি-ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কার্ড দেওয়া হয়নি। কীভাবে এ ধরনের কার্ড পেতে হয়, তা-ও তিনি জানেন না। তিনি একজন মা হলেও ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা কর্মসূচি থেকে কোনো সহায়তা পান না। সুরাইয়া আফসোস করে বলেন, আমি হতদরিদ্র নারী। সাহায্য পাওয়ার উপযুক্ত হয়েও কেন তাঁকে সরকারের কোনো প্রকল্প থেকে সহায়তা দেওয়া হয় না, তা বুঝতে পারেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন