বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পড়াশোনার পাশাপাশি ৫ বছর আগে দুই একর জমিতে আমবাগান করেন তারেক। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ৪৫০টি আমের চারা লাগিয়েছেন। সঙ্গে মিয়ানমার থেকে আনা সাতটি মালি আমের চারাও ছিল। কিন্তু চেনা আমের চেয়ে মালি আমেই ফলন ভালো হচ্ছে বলে দাবি করছেন তারেক। গত মৌসুমের উদাহরণ টেনে তারেক বলেন, ‘গত মৌসুমে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার মাইল্লাম বিক্রি করেছি। অন্য জাতের ৪০০-এর বেশি গাছের আম বিক্রি করে পাওয়া যায় আড়াই লাখ টাকার মতো।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তারেকের বাগানে গিয়ে দেখা গেল, গাছ থেকে মালি আম নামিয়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। টেকনাফের ফল ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া ৯৫ হাজার ৫০০ টাকায় চারটি গাছের আম কিনে নেন। বাদশা মিয়া বলেন, গত কয়েক দিনে তিনি ১০ মণের বেশি মাইল্লাম কিনে চট্টগ্রাম-ঢাকা পাঠিয়েছেন। আগে এই মাইল্লাম আসত মিয়ানমার থেকে। টেকনাফসহ কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষ মাইল্লাম দিয়ে আচার তৈরি করে। টক ফল হিসেবে মাইল্লাম রাখাইন সম্প্রদায়সহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের কাছে বেশ প্রিয়।

default-image

তারেক মাহমুদের দেখাদেখি টেকনাফের অনেকেই মালি আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। দুর্গম পাহাড়ে মালি আমের গাছ দেখা গেলেও গ্রামে এই গাছ তেমন চোখে পড়ে না। টেকনাফ, উখিয়া, পার্বত্য বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটিতেও মালি আমের গাছ দেখা যায়। তবে অন্যান্য জাতের আমের মতো টেকনাফসহ জেলার অন্য কোথাও মালি আমের বাণিজ্যিক চাষ নেই।

টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভবসিন্ধু রায় বলেন, এখানে মালি আমের বাণিজ্যিক চাষ না থাকলেও হ্নীলার কয়েকটি বাগানে মাইল্লামের ভালো ফলন হচ্ছে। পাহাড়ি ফলটি স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে মাইল্লাম, আবার স্থানভেদে মাইজ্জাম নামে পরিচিত। ফলগুলো আকারে ছোট, পাকলে হলুদ রং ধারণ করে এবং খেতে খুবই টক। পাহাড়ি ফলটির চাহিদা এখন ঢাকা-চট্টগ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে।

default-image

কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, আন্দামান দ্বীপ ও মালয়েশিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে মালি আমের চাষ হয়। মালি আমের গাছ চিরসবুজ এবং বহুবর্ষজীবী। বছরজুড়ে সবুজ পাতায় ভরপুর থাকে গাছ। গাছটি সর্বোচ্চ ৪২ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। ফাল্গুনে গাছে ফুলের কুঁড়ি আসে, গ্রীষ্মের শুরুতে ফল পাকে। পাকা ও কাঁচা ফল—দুটোই খেতে টক। পাকা ও কাঁচা ফল সাধারণত তরকারি ও আচার হিসেবে খাওয়া হয়। এই গাছে কাঠের মানও ভালো। আসবাব, বন্দুক ও চাকুর বাঁট তৈরিতে এই কাঠের জুড়ি নেই।

কৃষি কর্মকর্তা ও ফল ব্যবসায়ীরা বলেন, বাগান থেকে প্রতি কেজি মালি আম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতি কেজিতে ২০-২২টি মাইল্লাম ধরে। ওই হিসাবে প্রতি পিস মালি আমের দাম পড়ে ১৩ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। তখন প্রতিটি মাইল্লামের দাম পড়ে ২২ টাকার বেশি।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, তারেক মাহমুদের দেখাদেখি এলাকার অন্তত তিনজন যুবক মাইল্লাম চাষে এগিয়ে এসেছেন। ঘরে ঘরেও লাগানো হচ্ছে মাইল্লাম গাছ। কয়েক বছরের মধ্যে টেকনাফে মাইল্লাম চাষ জনপ্রিয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন