default-image

কাঁচা বাজারের মাংস মহালের সামনে মাছির ওড়াউড়ি। খুব কাছেই মুরগি ও মাছের দোকান। সেখানেও প্রচুর মাছি। মাংসের দোকানগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে এক পথচারীর কাছে জানতে চাই, ‘ভাই, পোস্ট অফিসটা কোন দিকে?’ মাংস বিক্রেতা আঙুলের ইশারায় দেখিয়ে দেন পোস্ট অফিস।

তারপরও ঠাহর হয় না পোস্ট অফিসটা কোন দিকে। অনেক কষ্টে দুটি মাংসের দোকানের ফাঁক দিয়ে চোখে পড়ে একচিলতে বারান্দা। বারান্দায় দুটি কুকুর। এগিয়ে গেলে দেখা মেলে ছোট্ট একটা ঘরের দরজা। জানা যায়, ওই ঘরটাই হচ্ছে শম্ভুগঞ্জ ডিজিটাল পোস্ট অফিস।

অনেক বছর ধরেই পোস্ট অফিসের সামনে গড়ে উঠেছে চারটি মাংসের দোকান। পাশে রয়েছে কয়েকটি মুরগির দোকান। রয়েছে মাছ ও সবজির দোকানও। এর মধ্যেই ছোট্ট পোস্ট অফিস। অফিসটির দুটি ঘর ছিল। বছর পাঁচেক আগে একটি ঘর দখল হয়ে যায়। দখল হওয়া ঘরের সামনে একটি ব্যবসায়ী সমিতির সাইনবোর্ড। জীর্ণ হয়ে যাওয়ায় পুরো সাইনবোর্ডটা পড়া যায় না।

পোস্টমাস্টার শেখ শামছুল আলমের কাছে জানতে চাই, এসব দোকানের কারণে দুর্গন্ধ আসে না? শামছুল আলম উত্তর না দিয়ে একটি সুগন্ধির বোতল দেখিয়ে বলেন, ঘণ্টায় ঘণ্টায় ঘরে সুগন্ধি ছিটিয়ে দিতে হয়। তারপরও মাঝেমধ্যে দুর্গন্ধে বমির ভাব হয়।

পোস্ট অফিসের সামনের জমিগুলো খাসজমি বলে জানান পোস্টমাস্টার। তিনি বলেন, এসব দোকানপাট উচ্ছেদের জন্য দুই বছর আগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে প্রায় অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।

পোস্ট অফিসের সামনে ছাড়াও শম্ভুগঞ্জ বাজারের ভেতর অবস্থিত পুরোনো একটি মন্দিরের সামনে অবৈধভাবে কয়েকটি দোকান গড়ে উঠেছে। এতে মন্দিরের সামনে ভাড়া দেওয়ার জন্য নির্মাণ করা কয়েকটি দোকান খোলা যাচ্ছে না। স্থানীয় মিজানুর রহমান, আহসান হাবিবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ এসব দোকান বসানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।

default-image

পোস্ট অফিস সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে পোস্ট অফিসের কাজ অনেক বেড়েছে। এ ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য পোস্ট অফিসের পক্ষ থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণের অধীনে শম্ভুগঞ্জ পোস্ট অফিসে আছেন ২৬ জন। তাঁরা দিনের বিভিন্ন পালায় বিভক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ছোট্ট একটা ঘরেই চলে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ। সামনের দোকানগুলোর কারণে সারাক্ষণ দুর্গন্ধ নিয়েই কাজ করতে হয় তিন কর্মচারী-কর্মকর্তাকে।

পোস্ট অফিসের সামনের একটি মাংসের দোকানের মালিক মো. ফজলু বলেন, সপ্তাহে ৬০ টাকার বিনিময়ে তিনিসহ সবাই এখানে ব্যবসা করেন। তবে টাকা কাকে দেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, মন্দিরের সামনে মিজানুর রহমান ও আহসান হাবিব মিলে কয়েকটি দোকান বসিয়েছেন। দোকানগুলো বাজারের সড়ক দখল করে বসানো হয়েছে। এতে বাজারের ভেতর দিয়ে চলাচলের সড়কটি অনেক সরু হয়ে গেছে। মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। অবৈধভাবে বসা মাছের দোকানের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পুকুরে। তাতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। মন্দিরের সামনের এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদের জন্য স্থানীয় ব্যক্তিরা সম্প্রতি ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হককে জানিয়েছেন। মেয়র এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কমিটিও করেছেন।

মেয়রের গঠিত তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এমদাদুল হক মণ্ডল বলেন, তাঁরা মন্দির কমিটির কাছ থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু দখলদারেরা কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। খুব দ্রুত মেয়রের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

মিজানুর রহমান দাবি করেন, ‘যেসব দোকানের বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো আমার দোকান নয়। তবে দোকানে যাঁরা ব্যবসা করেন, তাঁরা সরকারি নির্দেশনা পেলে দোকান সরিয়ে নেবেন বলে জেনেছি। এ ছাড়া তদন্ত কমিটির কাছে মন্দির কর্তৃপক্ষও প্রমাণ করতে পারেনি যে ওই জমি মন্দিরের।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0