বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানী দলের অভিযানেও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। এ বিষয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন ও সচিব অধ্যাপক এ এম এইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম, ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম ও শাহীলাল স্টোরের মালিক শহরের শেখহাটি জামরুলতলা এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলমকে আসামি করে দুদকের যশোরের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল একটি মামলা করেন। মামলা করার ২৮ দিন পর আজ মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দুদক যশোরের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাতকে নিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ইতিমধ্যে তদন্তকাজ শুরু করেছেন।

দুদকের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, ৭ অক্টোবর যশোর শিক্ষা বোর্ডে প্রথম জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে ১০ অক্টোবর দুদকের একটি দল অভিযানে নামে। অভিযানে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় ১৮ অক্টোবর দুদকের পক্ষ থেকে পাঁচজনকে আসামিকে করে মামলা করা হয়। এরই মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্তকাজও শুরু হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ডের ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা জালিয়াতি করে হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এর সঙ্গে বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব ও জালিয়াতি চক্রের প্রধান ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম ও শেখহাটি জামরুলতলা এলাকার শাহীলাল স্টোরের মালিক সিদ্দিক আলী বিশ্বাসের ছেলে আশরাফুল আলম জড়িত। তবে তদন্ত কমিটির প্রধান এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে চাননি।

বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আলী আর রেজা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনের কপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, ৫৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জালিয়াতি করা চেকের প্রতিটা পাতা টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে ঘষামাজা করে টাকার অঙ্ক পরিবর্তন করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর জন্য বোর্ডের জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন আছে। এ বিষয়ে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। ভবিষ্যতে শিক্ষা বোর্ডের অর্থ পাচার ঠেকাতে ব্যাংকের ডেটাবেইসের সঙ্গে অনলাইনে হিসাব মিলকরণের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

এদিকে চেক জালিয়াতি ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে লিখিত পত্র দিয়েছেন বোর্ডের হিসাব সহকারী আবদুস সালাম। এ ঘটনায় বোর্ডের সভায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি দুই দফায় আত্মসাৎ করা প্রায় ৩০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত অন্যরা স্বপদে এখনো বহাল আছেন।

শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারীরা বলছেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান দুর্নীতির মামলার আসামি হয়েও এখনো স্বপদে বহাল আছেন। তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়েও সংশয় আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন