কালকিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল বাসার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগস্টের শেষ দিন হওয়ায় আজ আমাদের পূর্বনির্ধারিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলাম। আমরা আসরের নামাজের পর অনুষ্ঠান শুরু করব। কিন্তু হঠাৎ আওয়ামী লীগের অফিস থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দল বেঁধে এসে আমাদের অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে তিনটা হাতবোমা নিক্ষেপ করেন। মুহূর্তেই হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। পরে তাঁরা আমাদের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। পৌর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। এতে পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইরান হাওলাদারসহ চার-পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হন।’

এতে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিল পণ্ড হয়ে গেছে। হামলায় আহত হয়েছেন চার নেতা-কর্মী।

আবুল বাসার আরও বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান শাহিন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান সরদারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’ হামলার কারণ জানতে চাইলে এ নেতা বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের দাবি, আমরা নাকি এমপি আবদুস সোবাহানের বিপক্ষে গিয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি তাহমিনার সঙ্গে থাকি। অথচ আজকের শোকসভায় আমরা এমপি আবদুস সোবাহান সাহেবকে প্রধান অতিথি রেখেছিলাম। বিশেষ অতিথি রেখেছিলাম এমপি তাহমিনা সিদ্দিকীকে। তবু উপজেলা আওয়ামী লীগের কেন এমন হামলা?’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান শাহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান সরদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ৬৫ জনের মতো নেতা-কর্মী পৌর নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করেন। তাঁরা নির্বাচনের পর থেকে কোথাও কোনো কর্মসূচি পালন করেননি। আজ তাঁদের দলীয় কার্যালয় ব্যবহার করে অনুষ্ঠান করার কথা। কিন্তু তাঁরা সেখানে না করে প্রেসক্লাবের সামনে করেন। সেখানে কী হয়েছে, তা আমরা কিছুই জানি না। আমাদের নামে মিথ্যা-বানোয়াট কথা বলা হচ্ছে। দলীয় কার্যালয়ের বাইরে গিয়ে পৌর আওয়ামী লীগ অনুষ্ঠান করলে সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান করা বোঝায়।’

এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইশতিয়াক আশফাক সন্ধ্যা সাতটায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘পৌর আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানে উত্তেজনার খবর পেয়েই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। কিছু চেয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন কি না, সেটা আমরা এখনো জানতে পারিনি। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ যদি আমাদের কাছে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দেয়, তাহলে আমরা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেব। পৌর এলাকায় কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন