বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে মোর্শেদকে পুলিশ গত ১৯ আগস্ট একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার করে। পরে ওই দিনই তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলায় বর্তমানে টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, মোর্শেদের দ্বিতীয় স্ত্রী সৈয়দ আমেনার বাবা সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বাদী হয়ে গত ২৪ আগস্ট টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, বিবাহিত হয়েও মোর্শেদ ২০১২ সালের জুনে তাঁর মেয়ে সৈয়দ আমেনাকে অপহরণ করে বিয়ে করেন। তাঁদের ছয় বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দুই স্ত্রী থাকায় মোর্শেদের পরিবারে মাঝেমধ্যেই কলহের সৃষ্টি হয়। এর জেরে ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে ওই এলাকার একটি বাসায় দাওয়াতের কথা বলে মোর্শেদ আমেনাকে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় মোর্শেদ আমেনাকে হত্যা করে লাশ গুম করেন। মোর্শেদের ভয়ে এত দিন তিনি মামলা করতে সাহস পাননি। পরে মোর্শেদ ১৯ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে মামলা করেন।

এ হত্যা মামলায় মোর্শেদকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে আবেদন করা হবে।

আদালত এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছিল কি না, তার প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কোনো মামলা বা জিডি হয়নি বলে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত মামলাটি রেকর্ড করার জন্য টাঙ্গাইল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

সদর থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন বলেন, এ হত্যা মামলায় মোর্শেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হতে পারে। এ ছাড়া অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মোর্শেদ টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। পরে জেলা যুবলীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দলীয় পদ না থাকলেও শহর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিতেন। পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদের বিরুদ্ধে করা ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা মামলা ২০১৩ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা, ব্যবসায়ী তুহিন হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের এক ডজন মামলা হয়েছে বিভিন্ন সময়। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন