default-image

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয় সাংসদ সামিল উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ ও ভোট চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ওজিউল ইসলাম নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর সাংসদকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে গতকাল বুধবার অভিযোগটি জমা দেন ওজিউল ইসলাম, যার অনুলিপি নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, নির্বাচন কমিশনের সচিব, রাজশাহী বিভাগ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকেও দেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সাংসদ সামিল উদ্দিন আহমেদ প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করছেন, যা নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বড় ভাই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে স্থানীয় ভোটারদের আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করার অভিযোগও করা হয়েছে। নির্বাচনকালে সৈয়দ নুরুল ইসলাম প্রশাসনিক দায়িত্ব ও মাহবুব আলম খানকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে মিথ্যা মামলায় (আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ মামলা) বিএনপির ছয় নির্বাচনকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবর্তে বেসরকারি স্কুল–কলেজের আওয়ামী লীগ–সমর্থিত শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান প্রথম আলোকে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ওই দিনই (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাংসদ সামিল উদ্দিন আহমেদকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার জন্য পৌরসভা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী সাংসদ কোনো প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করতে পারবেন না। এ ধরনের কার্যক্রম থেকে সাংসদকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের কোনো পত্র দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে সাংসদ সামিল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনী এলাকার বাইরে মনাকষায় নিজ বাসভবনে কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন। তাঁর কর্মীদের মধ্যে কেউ মতবিনিময় সভার ব্যানারের পাশে নৌকা প্রতীকের ব্যানারও টাঙিয়ে দেয়। কিন্তু সেটা তিনি খেয়াল করেননি। এর বাইরে নির্বাচনী এলাকায় কোথাও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেননি তিনি।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী ওজিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নিজস্ব বাসভবনে কর্মীদের সঙ্গে গণসংযোগের নামে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে ভোটের প্রচারণার বাইরেও শিবগঞ্জ পৌরসভার কয়েকটি স্থানে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। এর সচিত্র প্রমাণসহই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেছেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন