বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চিঠিতে জানানো হয়েছে, ‘কীর্তিপুর নাজমুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নারী ও পুরুষের দুটি কেন্দ্র বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশ করা আছে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের অমতে নারী কেন্দ্রটি পৃথক করে ব্যক্তিগত একটি প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত ওই প্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্রটি স্থাপিত হলে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ জন্য কেন্দ্রটি বর্তমান স্থানে বহাল রাখার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।’

চিঠিতে স্বাক্ষর করা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী একরামুল হককে নির্বাচনে সুবিধা দেওয়ার জন্যই কেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের পাশেই একরামুল হকের নির্বাচনী কার্যালয় ও তাঁর বাড়ি। ওই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর প্রার্থী একরামুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশন যা ভালো মনে করেছে তা–ই করেছে। এখানে তাঁর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। তা ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেরা মুন্নীর স্বামী নাজমুল ইসলামের নামে ওই বিদ্যালয়টি। সেখানে ভোটকেন্দ্র থাকাতে সাধারণ ভোটারদের আপত্তি রয়েছে।

নীতিমালা না মেনে ভোটকেন্দ্র ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, ভালো-মন্দ বিচার–বিশ্লেষণ করেই নির্বাচন কমিশন কেন্দ্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ভোটাধিকার প্রয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ইমরান হাসান সামাদ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন। পৌর এলাকার ১৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে আরেকটি চিঠি দিয়েছেন তিনি। চিঠিতে উল্লিখিত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আছে ঝিকরগাছা কাটাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝিকরগাছা এইচএস নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঝিকরগাছা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কৃষ্ণনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সম্মিলনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ঝিকরগাছা বিএম হাইস্কুল, নাজমুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পারবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ইমরান হাসান সামাদ বলেন, নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই পুলিশ নেতা-কর্মীদের বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে না। গায়েবি মামলা দিয়ে প্রতিরাতে পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে, হয়রানি করছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। যে কারণে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ বিভাগের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের ভালো পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে না।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করার বিষয়ে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঝিকরগাছা একটি ছোট পৌরসভা। তারপরও সেখানে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার স্বার্থে নয়টি ওয়ার্ডে নয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বাইরে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির সার্বক্ষণিক মোবাইল টিম থাকবে। খারাপ কিছু হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।’

১৬ জানুয়ারি ২১ বছর পরে ঝিকরগাছা পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তফা আনোয়ার পাশা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী লড়াইয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইমরান হাসান আছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পাঁচজন নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে আছেন। মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৩৮।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন