বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলায় গতকাল সাকরাইত উদ্‌যাপিত হয় ঝিলিম ইউনিয়নের চাতরাপাড়া, ফিল্টিপাড়া, বিল বৈলঠা, বৈলঠা ও চটিগ্রামে। এ ছাড়া রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বাবুডাইং ও শান্তিপাড়ায় এ উৎসব উদ্‌যাপনের খবর পাওয়া গেছে।

চাতরাপাড়া ও ফিল্টিপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সাকরাইত উপলক্ষে বাড়ি বাড়ি মাটির দেয়াল ও মেঝেতে আলপনা এঁকেছেন নারীরা। চাতরাপাড়ায় বিশু টুডু (৬৫) ও বাদল মার্ডির (৬২) বাড়িতে হচ্ছিল ‘ফাগুয়া ছুটাই’ পূজা। বাড়ির নতুন করে লেপা স্থানে কলা ও বটের পাতায় রাখা তেলের পিঠা। পরিবারের প্রধান পূজা দিচ্ছিলেন। আর প্রধানের স্ত্রী নতুন শাড়ি পরে চালের গুঁড়া দিয়ে আলপনা আঁকেন মেঝেতে।

বাদল মার্ডি ও বিশু টুডুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমন ধানের যখন শিষ আসে, তখন থেকেই তেলের পিঠা, তেলে ভাজা অন্যান্য মিষ্টান্নসহ ক্ষীর-পায়েস খাওয়া নিষেধ। সাকরাইতের দিনে ফাগুয়া ছুটাই পূজা দিয়েই তেলের পিঠাসহ অন্যান্য মিষ্টান্ন খেতে পারেন তাঁরা।

চাতরাপাড়া গ্রামের মোড়ল লাছাম মুরমুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে পাটি বিছিয়ে নাতি-নাতনি, ছেলেবউ সবাই মিলে দই-চিড়া, মুড়ি খাচ্ছেন। ‘সাকরাইতে আইজ সারা দিন এগলা খায়্যাই কাটবে। রাইত ছাড়া ভাত নাই,’ বলেন লাছাম মুরমু।

পাশের বাড়ি অনিল টুডুর ছেলে রঞ্জিত টুডুর স্ত্রী মায়া মার্ডিকে দেখা যায় তুলসীগাছের পাশে ঘণ্টা বাজিয়ে ধূপ জ্বালিয়ে পূজা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এটি পারিবারিক পূজা। সাকরাইতের দিন পরিবার ও গ্রামের সবার মঙ্গল কামনা করে এ পূজা করা হয়।

ফিল্টিপাড়া মাঠে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সময় কথা হয় এই গ্রামের সাংস্কৃতিক দলের সদস্য কল্পনা মুরমুর সঙ্গে। তিনি বলেন, সাকরাইত হচ্ছে কোলদের প্রধান উৎসব। বাড়িতে বাড়িতে দই-চিড়া, মুড়ি-মুড়কির সঙ্গে তৈরি করা হয় নানা ধরনের পিঠাপুলি। বাড়িতে বেড়াতে আসেন আত্মীয়স্বজন। সাকরাইতে সবাই আনন্দে মাতেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন