default-image

আধিপত্য ধরে রাখতে গ্রামের দুটি বংশের মানুষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি সেই বিরোধ ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল রোববার পুলিশ ও গণমান্য ব্যক্তিদের কাছে দুই পক্ষই শান্তির অঙ্গীকার করে। কিন্তু এরপর আড়ালে দুই পক্ষই ঘোষণা দেয় ‘লড়াইয়ে’ নামার। রাতের মধ্যেই এ তথ্য গ্রামে ছড়িয়ে যায়। আর ঘোষণা অনুযায়ী সকালেই টেঁটা, বল্লম, দা, ছুরি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ।

ঘটনাটি ঘটছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামে। আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

আহত তিনজন হলেন তুলাতুলি গ্রামের মৃত রহিছ উদ্দিনের ছেলে মোহন মিয়া (৩০), মৃত নীল মিয়ার ছেলে মিলন মিয়া (৪০) ও সুরুজ মিয়ার ছেলে ওসমান মিয়া (৩০)। তাঁদের প্রথমে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুলাতুলি গ্রামের মুন্সিবাড়ি ও নিয়াজবাড়ি নামে দুটি বংশের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এর আগেও নানা সময়ে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মুন্সিবাড়ি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিলন মিয়া ও নিয়াজবাড়ি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আবদুর রউফ।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, সম্প্রতি স্থানীয় ডিশ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি চলছিল। এর মধ্যেই এক যুবককে মারধর করেন মুন্সিবাড়ির কয়েকজন। এর জেরে গতকাল রাতে ওই এলাকার কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে আজ সকাল আটটা থেকে দুই পক্ষের শতাধিক লোক পূর্বঘোষণা অনুযায়ী টেঁটা, বল্লম, দা, ছুরি নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ওই সংঘর্ষে তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে দুজন টেঁটাবিদ্ধ ও একজন ককটেল বিস্ফোরণে দগ্ধ হন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

default-image

স্থানীয় লোকজন বলছেন, দুই পক্ষের লোকজনই গতকাল স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশের কাছে কথা দিয়েছিলেন, সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু আজ সকাল আটটার দিকে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষে আহত তিনজনই মুন্সিবাড়ি পক্ষের।
সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে মুন্সিবাড়ি পক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া মিলন মিয়া ও নিয়াজবাড়ি পক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া আবদুর রউফের মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন এই প্রতিবেদক। তাঁরা ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) সত্যজিৎ কুমার ঘোষ ও রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা।

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, কিছুদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বেশ কয়েকবারই দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছেন, তাঁরা সংঘর্ষে না জড়ানোর কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা কথা রাখেননি।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, খবর পেয়ে রায়পুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহত তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন