দেবাশীষ বর্ধন সাংবাদিকদের বলেন, লাশগুলো উদ্ধারের পর অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাঁচ ও ছয়তলায় তল্লাশি চালিয়ে পরে আপডেট তথ্য জানাতে পারবেন। তিনি বলেন, ওই কারখানায় কেমিক্যালসহ প্রচুর দাহ্য পদার্থ ছিল। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়। প্লাস্টিক, ফয়েল, কাগজ, রেজিন, ঘিসহ তৈরি করা মালামালসহ বিভিন্ন পদার্থ ছিল। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগে এবং বেগ পেতে হয়। তিনি বলেন, দুপুরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন ড্যাম্পিংয়ের কাজ চলছে।

কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কাজী রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের ওই ভবনের কারখানায় ২০০ শ্রমিক কাজ করতেন। ওই ভবন সেন্ট্রাল গোডাউন হিসেবে তাঁরা ব্যবহার করতেন। ওই ভবনে বিভিন্ন জুসের ফ্লেভার, রোল, ফয়েল প্যাকেটসহ বিভিন্ন মালামাল ছিল। আগুন লাগার পর কত শ্রমিক আটকা পড়েছেন, তা তাঁরা জানেন না। তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ওই কারখানার মালিকপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ২০০ শ্রমিক কাজ করতেন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ৫১ জন শ্রমিক নিখোঁজের তথ্য তারা লিপিবদ্ধ করেছে। ইতিমধ্যে ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো পুড়ে গেছে, সেগুলো দেখে চেনা বা শনাক্ত করার উপায় নেই। পুলিশ সুপার বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিআইডি ও পুলিশের টিম রয়েছে। জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খোলা হয়েছে। সেখানে ডিএনএ টেস্ট করে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, পাঁচ ও ছয়তলায় আগুন নেভানো শেষে তল্লাশি চালানো হবে। সেখানে লাশ থাকলেও থাকতে পারে। তিনি বলেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক কারখানায় ভাঙচুর করার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের কাঁদানে শেল ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকায় হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। আজ দুপুরের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। গতকাল রাতে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে তিন জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়া আজ শুক্রবার ফায়ার সার্ভিস এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের লাশ উদ্ধারের খবর জানিয়েছে।