সরেজমিন ও পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত খামারিরা অন্যের গাভি দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন। কেউ বলেছেন, সম্প্রতি তাঁরা গাভি বিক্রি করে দিয়েছেন। আবার কেউ বলেছেন গাভি বাড়িতে নেই, মাঠে আছে। কিন্তু তাঁদের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের নিজের গাভি নেই।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের মধ্যে প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মোহনপুরে ৭১৮ জনের মধ্যে ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার এবং পবায় ১ হাজার ৭৩৯ জনের মধ্যে ২ কোটি ৪ লাখ ১০ হাজার টাকার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

মোহনপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জনের বাড়ি চাঁদপুর ও চুনিয়াপাড়া গ্রামে। তাঁরা ১০ হাজার করে টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। গত ২৮ মে এই দুই গ্রামে গিয়ে জানা যায়, ১১ জনের কারও নিজের গাভি নেই। টাকা পাওয়া চুনিয়াপাড়া গ্রামের নওশাদ আলীর বাবা জমির উদ্দিন দাবি করেন, তাঁর ছেলের গাভি ছিল। কিছুদিন আগে বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে নওশাদের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রণোদনার টাকা নেওয়ার জন্য পাশের বাড়ির খামারির গাভি এনে নওশাদ ছবি তুলেছিলেন।

একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলীর বাড়িতেও কোনো গাভি নেই। তিনি প্রণোদনার টাকা পাওয়ার কথাও অস্বীকার করেন। কিন্তু প্রণোদনা পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় তাঁর নাম ও মুঠোফোন নম্বরের মিল আছে। আরেক বাসিন্দা কায়েম উদ্দিনের নিজের কোনো গাভি নেই। তাঁর বাবার আলাদা সংসার। বাবার একটি ছোট দেশি জাতের গাভি রয়েছে। সে গাভি দেখিয়েই তিনি প্রণোদনা পেয়েছেন।

চাঁদপুর পশ্চিম পাড়ায় এনামুল, সারোয়ার, আনিছুর নামের তিনজনের বাড়িতে গিয়েও গাভি পাওয়া যায়নি। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, গাভি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আনিছুরের স্ত্রী বলেছেন, গাভি বাড়িতে নেই। মাঠে আছে।

চাঁদপুর গ্রামের আলাউদ্দিন ও খোরশেদ দুই ভাই। দুজনেই প্রণোদনার টাকা পেয়েছেন। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে গাভি পাওয়া যায়নি। আলাউদ্দিন বলেন, গাভি বিক্রি করে জমি কিনেছেন। খোরশেদ বলেছেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গাভি বিক্রি করে এঁড়ে গরু কিনেছেন। মোটাতাজা করে আবার বিক্রি করবেন। এরপর আবার গাভি কিনবেন। একই গ্রামের মো. আসাদ ও তাঁর বোন সালেমা খাতুন, চাঁদপুর নওপাড়া গ্রামের ফজলে রাব্বির বাড়িতে গিয়েও গাভি পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডারের (এলএসপি) মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা প্রণোদনা পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা করেছেন। এলএসপি আরসাদ আলী বলেন, যখন তালিকা করেছেন, তখন সবার গাভি ছিল। পরে তাঁরা বিক্রি করে দিয়েছেন। একই কথা বলেন মোহনপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। পরেরবার প্রণোদনার টাকা দেওয়ার সময় আরও যাচাইবাছাই করা হবে বলে জানান তিনি।

পবা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম খামারিদের অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বললেন, এ বিষয়ে একটি তদন্ত হয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্পের পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান পবার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছেন। জানতে চাইলে মাহমুদুল হাসান অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানান। রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল গত রোববার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি একটি প্রতিবেদন পেয়েছেন। এটি পর্যালোচনা করে দেখবেন।