বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রতাপনগরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এ গ্রামে ২০০ পরিবারের বসবাস। গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ গ্রামের পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে উঁচু রাস্তার ওপর। গ্রামের একমাত্র পাকা মসজিদটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখনই এই গ্রামের মানুষ ভাসমান মসজিদে নামাজ পড়েন।

প্রতাপনগর হাওলাদার বাড়ি বায়তুন্নাজাত জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মঈনুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ২৬ মে খোলপেটুয়া নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ বন্যতলা নামক স্থান থেকে ভেঙে যায়। নদীভাঙন আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পুরো প্রতাপনগর গ্রাম পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। প্রতাপনগর হাওলাদার বাড়ি বায়তুন্নাজাত জামে মসজিদটির চারদিক গ্রাস করে ফেলে। নদীর পানির তোড়ে ১০ সেপ্টেম্বর মসজিদের চারদিকের রাস্তা পানিতে তলিয়ে ধসে পড়ে। পানি মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। মসজিদসহ যাওয়ার রাস্তা সব ডুবে যায়। বাধ্য হয়ে মসজিদে নামাজ আদায় ও আজান দেওয়ার জন্য সাঁতরে কয়েক দিন গেছেন তিনি। তবে নৌকা পেলে নৌকায় যেতেন কখনো কখনো।

মঈনুর রহমান জানান, পানিবন্দী এলাকার মুসল্লিদের কথা চিন্তা করে আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নাসিরউদ্দীন একটি ভাসমান মসজিদের ব্যবস্থা করেন। মঙ্গলবার জোহরের নামাজের মধ্য দিয়ে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়েছে। ভাসমান এ মসজিদটিতে একসঙ্গে ৫০ জন নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৫২ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। এখানে অজু করার স্থান, পানি ব্যবহারের জন্য চারটি ট্যাব ও একটি শৌচাগার রয়েছে।

প্রতাপনগর গ্রামের বর্ষীয়ান শামছুর ঢালী জানান, মসজিদ ভবনটি পানিতে তলিয়ে কাত হয়ে পড়ে যাওয়ার আগে প্রতিদিন ৭০-৮০ জন মানুষ নামাজ পড়তেন। জুমার নামাজে আরও বেশি মানুষ হয়। কিন্তু গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লোকজন বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে এখন মুসল্লি কম হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে ভাসমান মসজিদে নামাজ আদায় শুরু হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সহসভাপতি শামছুর রহমান গাজী জানান, দুই মাস ধরে তাঁরা নামাজ আদায় করতে পারছিলেন না। ভাসমান মসজিদটি পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে। এলাকার মানুষ খুশি হয়েছে। মসজিদটি যাঁরা তৈরি করে দিয়েছেন, তাঁদের জন্য দোয়া করা হয়েছে।

আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আশিকুর রহমান ও শহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদের ইমাম সাহেব সাঁতরে মসজিদে গিয়ে আজান দিচ্ছেন—এমন একটি ভিডিও দেখতে পান। ভিডিওটি দেখার পর তিনি একটি ভাসমান মসজিদ তৈরি করে দিয়েছেন। প্রতাপনগর হাওলাদার বাড়ি বায়তুন্নাজাত জামে মসজিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি এই ভাসমান মসজিদের দায়িত্ব পালন করবে। ওই মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ‘ডু সামথিং’ নামের একটি সংগঠন নৌকা কিনে দিয়েছে।

default-image

প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারাম্যান জাকির হোসেন জানান, পানিতে শুধু প্রতাপনগর গ্রাম তলিয়ে রয়েছে। গ্রাম ডুবে যাওয়ায় অনেক মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।  প্রতাপনগর হাওলাদার বাড়ি বায়তুন্নাজাত জামে মসজিদের পাশের রাস্তা যখন তলিয়ে যাচ্ছে, তখন তিনি তাদের বলেছিলেন, রাস্তা সংস্কার করে পানি আটকাতে। কিন্তু তারা করেনি। ফলে পানির তোড়ে মসজিদ ভবন পড়ে গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন