বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাঁচজনই অভিযোগ করেন, নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের কোনোরূপ সহযোগিতা করেননি। প্রত্যেক প্রার্থী তাঁদের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটির ভোট পর্যন্ত পাননি। প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটির সদস্যসংখ্যা ৫১। অথচ ওই সব ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে নৌকার ভোট দুই অঙ্ক স্পর্শ করেনি। নৌকার প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে দলীয় নেতারা দায়ী বলে পরাজিত ওই পাঁচ প্রার্থী অভিযোগ করেন।

পরাজিত প্রার্থীরা আরও বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তাঁরা এ বিষয়গুলো জানিয়ে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দেবেন বলে জানান।

বোয়ালমারীতে ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই পরাজিত হন। নৌকার ঘাঁটিতে নৌকা ভরাডুবির ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে চতুল ইউপির নৌকার প্রার্থী খন্দকার আবুল বাশার বলেন, ‘আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে বারবার সহযোগিতার জন্য গেলেও তাঁরা আমাকে কোনো সহযোগিতা করেননি। উল্টো তাঁদের অনুসারী উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদে থাকা ব্যক্তিরাই নৌকার বিপক্ষে চশমা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন।’ আবুল বাশার আরও বলেন, ‘চতুল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আমি পাঁচ ভোট পেয়েছি। অথচ ওই কেন্দ্রের পাশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতিও ওই কেন্দ্রের ভোটার। ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. জালাল সিকদারসহ কোনো ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীই নৌকার পক্ষে ভোট চাননি। ওয়ার্ড কমিটির সদস্যসংখ্যা ৫১। তাহলে আমি পাঁচটি ভোট পাই কীভাবে?’

রূপাপাত ইউপির নৌকার প্রার্থী মো. মহব্বত আলী বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের সভাপতি নিজে আমার পক্ষে কাজ না করে পাশের ইউনিয়নের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকতেন। আর তাঁর ছেলে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে কাজ করেছেন।’

ময়না ইউপির নৌকার প্রার্থী পলাশ বিশ্বাস বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির মো. সেলিম, সদস্য আবুল খায়ের এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সিদ্দিকী আমাকে নির্বাচনে সহযোগিতা করেননি। বারবার বলার পরও জাফর সিদ্দিকীর দলীয় কোনো লোক আমার নির্বাচনী প্রচারকাজে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানান। সেলিম ও জাফর চাচা-ভাতিজা মিলে প্রতিপক্ষ হাতপাখার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।’

এ অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে আমাদের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক ছিল না।
পীকুল মীরদাহ, সভাপতি, বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগ

দাদপুর ইউপিতে নৌকার প্রার্থী শেখ সাজ্জাদুর রহমান বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি জলিল, দাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আওয়ামী লীগের পদধারী কোনো নেতাই নৌকার পক্ষে কাজ না করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।

বোয়ালমারী সদর ইউপির নৌকার প্রার্থী আ. ওহাব মোল্লা বলেন, তাঁর ইউপিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল হক শেখ। বারবার বলার পরও উপজেলা আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা আবদুল হককে নির্বাচন থেকে সরানোর কোনো চেষ্টাই করেননি বরং নৌকাকে পরাজিত করার জন্য আবদুল হককে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন।

পরাজিত পাঁচ দলীয় প্রার্থীর অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পীকুল মীরদাহ বলেন, ‘এ অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমরা সব ইউনিয়নেই নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে আমাদের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক ছিল না।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পরাজিত প্রার্থীদের আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। ১০ ইউপিতে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে গেছি। ওরা পরাজিত হয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এ জাতীয় অভিযোগ করছেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন