default-image

বরগুনা পৌর নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর সময় নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর এক কর্মীকে বাসায় ডেকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠছে। পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নাসরীন নাহার এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন (৪৫)।

আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন নাসরীন নাহারের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত দেলোয়ারকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকেরা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নাসরীন নাহার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগ মোটেই সত্য নয়। আমার জনপ্রিয়তায় ভাটা লাগাতে আমার এ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিচ্ছেন।’

আহত দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নিপা আক্তারের টেলিফোন প্রতীকের পক্ষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে তিনি শহীদ মিনার এলাকায় যান। এ সময় নিপা আক্তারের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসরীন নাহার তাঁর বাসা থেকে দেখে ফেলেন। পরে তিনি দেলোয়ারকে বাসায় ডেকে নেন। এরপর তিনি জানতে চান দেলোয়ার কার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। নিপা আক্তারের টেলিফোন প্রতীকের প্রচারণা চালানোর কথা বলতেই তিনি গালাগাল শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

এর প্রতিবাদ করতেই তিনি একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ বসিয়ে দেন। আর পরে তাঁর বাসার আশপাশে টেলিফোন প্রতীকের প্রচারণা চালাতে না যাওয়ার জন্য সতর্কও করে দেন।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মেহেদী হাসান বলেন, আহত দেলোয়ার হোসেনের মাথায় আঘাতের ফলে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ আঘাত গুরুতর নয়। তাঁর মাথায় কী দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, তা–ও স্পষ্ট নয়। তারপরও ঝুঁকি এড়াতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নিপা আক্তার বলেন, নির্বাচনের শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসরীন নাহার নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন। এবার প্রচারণার সময় তিনি নিজেই এক কর্মীকে বাসায় ডেকে নিয়ে মাথা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বরগুনা সদর থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তাঁরা শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন