default-image

নরসিংদীর শিবপুরে একটি প্রকল্পের মাঠ ভরাটের বালু ফেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে সকাল নয়টার দিকে শিবপুরের আইয়ুবপুর ইউনিয়নের ঘাসিরদিয়ার শাসপুর এলাকায় হামলার সময় ছুরিকাঘাতের এ ঘটনা ঘটে।

ছুরিকাঘাতে নিহত ওই তরুণের নাম মো. জসিম মিয়া (২৪)। তিনি ওই প্রকল্পে বালু ভরাটের টেন্ডার পাওয়া মো. কাবিল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় দুপুরে চারজনের নাম উল্লেখসহ মোট আটজনকে আসামি করে শিবপুর থানায় মামলা করেছেন নিহতের চাচা রমজান মিয়া। চার আসামি হলেন শিবপুরের কোদালিয়া গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে ওসমান মিয়া (৪৫) ও কামাল মিয়া (৩৬), ওসমান মিয়ার ছেলে দৌলত মিয়া (২০) এবং তাজুল ইসলামের ছেলে মাইন উদ্দিন (১৯)। মামলার পরই প্রধান আসামি ওসমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল নয়টার দিকে হঠাৎ কয়েকজন নারীসহ মোট আট ব্যক্তি প্রকল্প এলাকায় ঢুকে পড়েন। ওই সময় ভেতরে প্রবেশ করা ১০–১২টি বালুভর্তি ড্রামট্রাকের কাচ ভাঙচুর করতে থাকেন তাঁরা। এ সময় বালু ফেলার শ্রমিকেরা ছাড়াও ঠিকাদারপক্ষের কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনা কী, জানতে সেখানে এগিয়ে গেলে ঠিকাদারপক্ষের রমজান মিয়া ও জসিম মিয়ার সঙ্গে বালু ফেলা নিয়ে তাঁদের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা জসিমকে টেনেহিঁচড়ে ওই প্রকল্প এলাকার বাইরে নিয়ে যান। পরে তাঁর পেট ও হাতের তিন জায়গায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

মামলার বাদী ও নিহতের চাচা রমজান মিয়া বলেন, ‘একপর্যায়ে বাইরে গিয়ে দেখি, জসিমের পেটের দুই জায়গায় ও হাতে ছুরিকাঘাত করছেন ওসমান। পরে আমরা কয়েকজন মিলে তাকে একটি গাড়িতে করে হাসপাতালে পাঠাই। প্রথমে তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ওখান থেকে তাকে পাঠানো হয় রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। থানায় বসে আমরা যখন মামলা লিখছিলাম, তখনই জসিমের মৃত্যুর খবর পাই। এর আগেও বিভিন্ন সময় বালু ফেলা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আমাদের ঝামেলা লেগেছিল।’

এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শিবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেজবাহ উদ্দিন, শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান ও আইয়ুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান সরকার প্রমুখ।

ওই প্রকল্পটির ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সাল থেকে শিবপুরের আইয়ুবপুর ইউনিয়নের ঘাসিরদিয়ার শাসপুর এলাকায় একটি শিল্প গ্রুপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক নির্মাণের কাজ চলমান। তখন থেকেই এই প্রকল্পে বালু ফেলে মাঠ ভরাটের কাজ করতে চেয়েছিলেন স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার। তাঁদের মধ্যে কাবিল মিয়া নামের একজন ঠিকাদারকে বালু ফেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই থেকেই বালু ফেলার কাজ চেয়ে না পাওয়া অন্য ঠিকাদারেরা তাঁর সঙ্গে নানাভাবে ঝামেলা করছিলেন। এসব ঝামেলা সামলেই কাবিল মিয়া ২০১৩ সাল থেকে এই প্রকল্পে বালু ফেলে আসছেন। এরই মধ্যে প্রকল্পটিতে মোট ৮০ বিঘা জমির মধ্যে প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে বালু ভরাট করা হয়ে গেছে। এসবের জেরেই আজ সকালে এই হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, ‘একটি প্রকল্পের মাঠ ভরাটের বালু ফেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকেই এই হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। মামলা হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত প্রধান আসামি ওসমানকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি আমরা। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন