default-image

ইফতার শেষে বাড়ির বাইরে বের হয়েছিলেন বাবা-ছেলে। হঠাৎ লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বাবা হাবিল কাজী (৪৪)। তাঁকে রক্ষার জন্য শরীরের ওপর শুয়ে পড়ে স্কুলছাত্র ছেলে শওকত হোসেন (১৪)। তবে শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারেনি। প্রতিপক্ষের হামলায় চোখের সামনে নিহত হন বাবা হাবিল কাজী। ধারালো অস্ত্র ও লাঠির আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে শওকত।

রাজশাহীর বাগমারার গণিপুর ইউনিয়নের মাধাইমুড়ি গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাবিল কাজী মাধাইমুড়ি গ্রামের স্কুলশিক্ষক আজিমুদ্দিনের ছেলে। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বাবাসহ আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাতেই রাজশাহীর সদর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, একটি বিরোধপূর্ণ জমি দখল নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মাধাইমুড়ি গ্রামের আলামিনের সঙ্গে প্রতিপক্ষ সিদ্দিক ও তাঁর লোকজনদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাবিল কাজী বিষয়টি লক্ষ করেন। তিনি তাঁর আত্মীয় আলামিনের পক্ষ নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়ান। এতে প্রতিপক্ষের লোকজন হাবিল কাজীর প্রতি ক্ষুব্ধ হন। এ ছাড়া আগে থেকে প্রতিপক্ষে লোকজনের সঙ্গে হাবিল কাজীদেরও জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

বিজ্ঞাপন

গতকাল ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হাবিল কাজী ও তাঁর ছেলে বাড়ির বাইরে যান। এ সময় ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষ একই গ্রামের সিদ্দিক, খলিলসহ ৭-৮ জন হাবিলকে ঘিরে ধরেন। বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাঁরা লাঠি দিয়ে হাবিলকে বেধড়ক পিটুনি দেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ছেলে মচমইল উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শওকত হোসেন চিৎকার শুরু করে। সে বাবাকে রক্ষার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বাবা মাটিতে পড়ে গেলে সে বাবার গায়ে শুয়ে পড়ে রক্ষার চেষ্টা করে। এ সময় তাকেও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। চিৎকারে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাঁদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিল কাজীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে অবস্থার অবনতি হলে হাবিলের বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আজিমুদ্দিনসহ তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফায়সাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, হাবিল কাজীকে মৃত অবস্থায় এখানে আনা হয়েছে। অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অবস্থার অবনতি ঘটায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন স্কুলছাত্র শওকত হোসেন বলে, তার চোখের সামনে বাবাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। বাবাকে রক্ষার জন্য তাঁর শরীরের ওপর পড়ে গেলেও রক্ষা করতে পারেনি। ‘আর মাইরেন না’ বলে আকুতি জানালেও রেহাই পাওয়া যায়নি। তাকেও পেটানো এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন